ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈশাখী ভোরে উপহার হয়ে এলো জাহিদুল-আয়েশার কন্যা

বৈশাখী ভোরে উপহার হয়ে এলো জাহিদুল-আয়েশার কন্যা
×

নানি ফেরদৌসী খাতুনের কোলে পহেলা বৈশাখ প্রথম প্রহরে জন্ম নেওয়া শিশু ছবি: সমকাল

মিরাজুল ইসলাম মিরাজ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১৭

বাংলার আকাশ জুড়ে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠার প্রস্তুতি– ঠিক তখনই চুয়াডাঙ্গার এক ক্লিনিকে কান্নার শব্দে জানান দিল এক নতুন প্রাণের আগমন। নববর্ষের প্রথম প্রহরে জাহিদুল ইসলাম ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে আসলো দ্বিতীয় কন্যা সন্তান।

দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের আয়েশা খাতুন ও নতিপোতা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের বিয়ের বয়স সাত বছর। সোমবার মাগরিবের পর থেকেই প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন আয়েশা। সারারাত কষ্টের পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তাকে নিয়ে আসা হয় ক্লিনিকে। যাতায়াতের ভোগান্তিও কম ছিল না; উৎসবের সকালে গাড়ি না পেয়ে পাখিভ্যানে করেই মেয়েকে নিয়ে ক্লিনিকে দৌড়াতে হয়েছে নানী ফেরদৌসী খাতুনকে।

অবশেষে সকাল ৭টায় ডা. হাসানুজ্জামান নুপুরের তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয় সাড়ে তিন কেজি ওজনের ফুটফুটে এক শিশু। নবজাতকের আগমনে খুশির জোয়ার বইছে পুরো পরিবারজুড়ে। জন্মের পরপরই নানি ফেরদৌসী খাতুনের কেনা ছোট্ট একটি গোলাপী জামা পরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। দাদা-দাদীর পছন্দে নাম রাখার অপেক্ষায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়নি, তবে ক্লিনিকের নার্সরা ভালোবেসে তাকে ডাকছেন 'বৈশাখী' নামে।

মা আয়েশা খাতুন বলেন, আজকে যে পহেলা বৈশাখ, সেটা আমার মনে নেই। সন্তান প্রসবের পর নার্সরা যখন আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন, তখন অন্যরকম এক ভালো লাগায় মনটা ভরে গেল। ডা. তাসনিম জারা আজকের সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু দিনটি যে উৎসবের দিন হবে তা ছিল ভাবনার বাইরে। এই শিশুই আমাদের পহেলা বৈশাখের সেরা উপহার।

কৃষি শ্রমিক বাবা ও গৃহিণী মায়ের এই সন্তানকে নিয়ে আছে বড় স্বপ্ন। মা আয়েশা খাতুন নিজে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও মেয়েকে মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মামুন অর রশিদ শাওন জানিয়েছেন, মা ও নবজাতক দুজনেই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা

আরও পড়ুন

×