নদী ভাঙ্গনের দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে নবজাতক
হাসপাতালে ফুফুর কোলে নবজাতকটি। ছবি : সমকাল
আনোয়ার হোসেন স্বপন, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৫২
নববর্ষের সকালেই প্রসব ব্যথা ওঠে আদিতমারী উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী মহিষখোচা ইউনিয়নের বনচৌকি গ্রামের সুলতানা বেগমের (২৫)। সকাল সাড়ে ৭টার দিকের লালমনিরহাট জেলা শহরের মনোয়ারা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে ভর্তি করেন শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। সঙ্গে আসেন ননদ রাশেদা খাতুন ও মা শেফালী বেগম। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত চিকিৎসককে খবর দিলে সকাল ৮টায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান।
নবজাতকের বাবা শফিকুল ইসলাম ঢাকায় একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন। ছুটি না পাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। এটি এ দম্পতির প্রথম সন্তান। হাসপাতালে কথা হয় নবজাতকের দাদা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, দুই পরিবার তিনবার করে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। জমিজমা ও বসতভিটা সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরে বনচৌকি গ্রামে তারা ঠাঁই নিয়েছেন। শেষ সম্বল বলতে বসতভিটার ওই পাঁচ শতক জমি। প্রথমবার দাদা হতে পারে তিনি খুশি। নাতির মুখ দেখে নদী ভাঙ্গনের কষ্টের কথা ভুলতে চান তিনি।
একই কথা বলছিলেন নবজাতকের নানি শেফালী বেগম। তার পরিবারও নদী ভাঙ্গনের শিকার। তিনবার বাড়ি পাল্টে এখন গোবর্ধন এলাকায় বাস করছেন। তিনি বলেন, বাহে, দোয়া করছি, ছাওয়াটা (ছেলেটা) যেন বড় হয়ে লেখাপড়া শিখি পুলিশ অফিসার হয়, ডাক্তার হয়। নবজাতকের ফুফু রাশেদা খাতুন বলেন, আর্থিক কারণে ভাই ও ভাবি লেখাপড়া করতে পারেননি। ভাতিজাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় কিছু করবেন এমন আশা তাঁর। শিশুটির নাম এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানান তিনি। অপারেশন পরবর্তী দুর্বলতা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মা সুলতানা বেগম। অস্ফুট শব্দে তিনি সবার কাছে তার সন্তানের জন্য দোয়া চান।
হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট এমএস আলী বলেন, ডাক্তার হিসাবে অনেক সিজারিয়ান অপারেশন করেছি। অনেক নবজাতককে প্রসব করিয়েছি। তবে নববর্ষের প্রথম প্রহরে আজকের এই অপারেশনটা ভিন্ন অনুভব করছি। মা ও নবজাতক ভালো রয়েছেন বলে জানান তিনি। মনোয়ারা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান হারুন-অর- রশিদ হাসপাতালের পক্ষ থেকে নবজাতককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
- বিষয় :
- লালমনিরহাট
