ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পহেলা বৈশাখে সাতক্ষীরায় পৃথিবীর আলোয় ৩ শিশু

পহেলা বৈশাখে সাতক্ষীরায় পৃথিবীর আলোয় ৩ শিশু
×

মা রেখামনির সঙ্গে ঘুমিয়ে আছে হিরামনি। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা ডিজিটাল হাসপাতালে। ছবি: সমকাল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:১৭ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:০৩

পহেলা বৈশাখের দিনে সাতক্ষীরায় পৃথিবীর আলো দেখেছে তিন শিশু। বাংলা নববর্ষের নতুন সূর্যের সঙ্গে তাদের আগমনে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। নববর্ষের দিনে শিশুর আগমনে পরিবারের ভালোবাসা আর অনুভূতির গভীরতা যেন আরও বহুগুণ বেড়েছে।

মঙ্গলবার ভোর ৫ থেকে সাড়ে ৮টার দিকে শহরের ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল লিমিটেড এবং সাতক্ষীরা ডিজিটাল হাসপাতালে এ তিন শিশুর জন্ম হয়। তাদের পেয়ে যেনো ঈদের খুশি পরিবারগুলোতে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাতক্ষীরার ইসলামী কমিউনিটি হাসপাতালের হাসপাতালে রহমান সরদার ও সুমী খাতুনের কোল জুড়ে আসে নবজাতক। জন্ম নেওয়ার পর কিছুটা অসুস্থ থাকলেও ধীরে ধীরে সেরে ওঠে সে। রহমান ও সুমী সম্পতি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার শ্যালে গ্রামের বাসিন্দা।

রহমান জানান, ভান চালিয়ে চলে তাঁর পাঁচজনের সংসার। বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি। ৯ বছর আগে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বাবুলিয়া গ্রামের ইছার আলীর মেঝ মেয়ে সুমী খাতুনকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। এর আট বছর আগে জন্ম নেয় সিয়াবুল সাকিল নামে এক সন্তান। বর্তমানে সে শহরের টাউন বাজার তাকাইয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্ত্রী সুমি গৃহিণী। 

তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে স্ত্রীর প্রসবব্যথা উঠলে সাতক্ষীরা ইসলামী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সাড়ে ৮টার দিকে জন্ম নেয় শিশুটি।

নবজাতকের নানা ইছার আলী জানান, পহেলা বৈশাখের দিনে মেয়ের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ায় তিনি খুবই খুশি। মেয়ে ও নাতি দুজনে ভালো আছে। নানী লিলিফা বেগমেরও আনন্দের শেষ নেই।

সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসলাম হোসেন বলেন, ‘সকালে ভর্তি হওয়া সুমী নামে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে ডা. মেহেবুব আঁখি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। বাচ্চার ওজন কম থাকায় শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। পরে আমরা তাকে সদর হাসপাতালে পাঠাই। বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে।’

অপরদিকে সাতক্ষীরা ডিজিটাল হাসপাতালের নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান ও মা রেখামনি খাতুন কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। হাবিবুর জানান, এটা তাদের প্রথম সন্তান। মেয়ের জন্ম হওয়ায় তিনি খুব খুশি। স্ত্রীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রেখেছেন হিরামনি। তার স্ত্রী-সন্তান দুজনে সুস্থ আছেন। 

নবজাতকের নানি রাবেয়া পারভিন জানান, সোমবার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান। মঙ্গলবার ভোর অস্ত্রোপচারে জন্ম হয় ফুটফুটে নাতনির। তিনি খুব খুশি। 

একই হাসপাতালে ভোরের আলো ফোটার আগে জন্ম নিয়েছে পিতা কায়সার হাসিব ও নাজমিন আক্তারের প্রথম সন্তান। মা ও শিশু– দুজনেই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা শহরের কামানগর এলাকার বাসিন্দা। 

সাতক্ষীরা জেলা বেসরকারি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, জেলা শহরের ৪০টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে পহেলা বৈশাখে দুটি হাসপাতালে তিনটি শিশু জন্ম নিয়েছে। তারা বর্তমানে সুস্থ আছে। প্রজন্মবরণের এমন উদ্যোগের জন্য তিনি সমকালকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন

×