নববর্ষে মেয়ের জন্মে খুশির বান
রাজবাড়ীর আরোগ্য ক্লিনিকে মঙ্গলবার জন্ম নেওয়া মেহেরুন নেছা। ছবি: সমকাল
সৌমিত্র শীল চন্দন, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:২৫
রাজবাড়ী শহরের বড়পুল বকুলতলায় মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে চলছে নববর্ষবরণের অনুষ্ঠান। বকুলতলার প্রায় দেড়শ গজ দূরেই বেসরকারি আরোগ্য ক্লিনিক। সেখানেই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জন্ম নিয়েছে মেয়েশিশু।
শিশুটির বাবা মেহেদী বিশ্বাসের বাড়ি ফরিদপুর জেলার শিবরামপুর গ্রামে। তাঁর নামে মিলিয়েই দাদা নাম রেখেছেন মেহেরুন নেছা। এই সদ্যোজাত শিশুটির মা চামেলি বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার হাউলি কেউটিল গ্রামের বাসিন্দা।
আরোগ্য ক্লিনিকে কথা হয় শিশুটির নানী বেগমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, দেড় বছর আগে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয় ফরিদপুরের মেহেদী বিশ্বাসের সাথে। প্রথম সন্তান বাবার বাড়িতে হওয়ার রেওয়াজ আছে। এ কারণে প্রায় এক মাস আগে মেয়ে চামেলিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সোমবার রাত ১১টার দিকে চামেলির প্রসববেদনা ওঠে। রাতেই তাঁকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, ছুটির দিনে ডাক্তার পাওয়া যাবে না। এ কারণে আরোগ্য ক্লিনিকে নিয়ে আসেন স্বজনেরা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে চামেলি জন্ম দেন মেয়েশিশুর। শিশু ও মা দুজনেই সুস্থ আছে। বেগমের ভাষ্য, তাঁর মেয়ের (চামেলি) পেটে একটা সমস্যা ছিল। সন্তান জন্মের পর সে সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। এটা তাঁর জন্য অনেক স্বস্তির খবর। মেয়ে-নাতনি সুস্থ আছে, এটাই অনেক সুখের কথা। মেয়ে জন্মের খবরে তার বাবা মেহেদি ছুটে এসেছিলেন। মেয়েকে কোলে করে আদর করেছে।
মেহেদী বিশ্বাসকে আরোগ্য ক্লিনিকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, নববর্ষে তার মেয়ে জন্ম নিয়েছে, এটা অনেক খুশির বিষয়। আল্লাহ যা দিয়েছে তাতেই খুশি তিনি। মেয়েকে অনেক বড় করার স্বপ্ন দেখেন।
শিশুটির মা চামেলি বেগম জানান, এটা তাদের প্রথম সন্তান। পহেলা বৈশাখে তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে এটা কখনও ভাবেননি। তাঁর অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মুচকি হেসে ফেলেন। বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। মেয়ের বাবাও খুশি।’ তাদের দুজনের নির্দিষ্ট করে চাওয়া ছিল না জানিয়ে চামেলি বললেন, ছেলে বা মেয়ে যা হবে, তাতেই তারা খুশি হতেন। মেয়ে হয়েছে এতেই খুশি।
চার দেওয়ালের মাঝে থাকায় বাইরের শব্দ কানে আসে না। কিন্তু চামেলি জেনেছেন, আশপাশে কোথাও নববর্ষের অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। এটাই তাঁর জীবনের স্বপ্ন। শিবরামপুরের শ্বশুরবাড়িতে থাকোর সময় ফরিদপুরের গাইনি ডাক্তারের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়েছেন।
নববর্ষে শিশু জন্ম নিয়েছে এমন খবরে শিশুটিকে দেখতে গিয়েছিলেন একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চয় বিশেষ একটা কিছু। নববর্ষে শিশুর জন্মদিন পালিত হবে- এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’
আরোগ্য ক্লিনিকের স্টাফ নার্স ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাশিশুটির জন্ম হয়েছে। এতে তারা খুবই আনন্দিত। শিশু ও মা দুজনই সুস্থ আছে। শিশুর ওজন যতটা হওয়ার দরকার ছিল, ততটুকুই হয়েছে। তারা নবজাতক ও তার মায়ের বিশেষ খেয়াল রাখছে।
