দুই সচিবসহ ১১ জনকে বেলার আইনি নোটিশ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) না করে এবং ছাড়পত্র ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল-মহেশখালী উপকূল থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের দাবি জানিয়ে ৯ জন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকসহ ১১ জনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বালু উত্তোলনসহ নদীবিরুদ্ধ সব কার্যক্রম বন্ধে যথাযথ দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ নোটিশ পাঠানোর ৭ দিনের মধ্যে বেলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে অবহিত করা, অন্যথায় নোটিশ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান বেলার আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা। নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট ও বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না।
যাদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন– পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক, মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পের (সওজ অংশ) প্রকল্প পরিচালক ও টোকিও-এমআইএলের (জেভি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
নোটিশে বলা হয়েছে, মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএলকে (জেভি) মহেশখালী চ্যানেল-মহেশখালী উপকূলের হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২ এপ্রিল জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কিছু শর্তসাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে। স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন না করে এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করলে এলাকায় নদীভাঙন বাড়বে, নষ্ট হবে জলপ্রবাহ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য, ক্ষয় হয়ে যাবে সমুদ্র উপকূল। যার ফলে এসব এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যাপক সংকটে পড়বে। পাশাপাশি অপর প্রান্তে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত রানওয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
- বিষয় :
- নোটিশ
