কুষ্টিয়ায় শামীম হত্যা: এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নেই
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৫৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ছয় দিন পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ, হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি এবং স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এজাহারভুক্ত আসামির অনেকেই এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও তারা সক্রিয়। মামলার এজাহারে ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে অভিযুক্ত খাজা আহম্মেদ গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ১২ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, মামলার দ্বিতীয় আসামি খেলাফত মজলিস নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজে স্থানীয় হোসেনাবাদ এলাকার একটি মসজিদে ইমামতি করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকেও তাঁকে হোসেনাবাদ বাজারে দেখা যায়।
হোসেনাবাদ বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সবাই জানি যে, আসাদুজ্জামান আসাদের নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বাজারের ভেতর দিব্যি মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখলাম।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে; তদন্ত চলমান।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত শনিবার উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় আব্দুর রহমান শামীমের দরবারে হামলা চালানো হয়। উত্তেজিত জনতা সেখানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করে।
- বিষয় :
- কুষ্টিয়া
- পিটিয়ে হত্যা
