ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধান

রক্ত পরীক্ষায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্লাটিলেট ২২ হাজার, ফরিদপুরে ৪ লাখ!

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধান
×

রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চার মাস বয়সী শিশু আদনান ইসলামের জ্বর হয়েছিল। তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্লাটিলেট পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রক্ত পরীক্ষার পর রিপোর্টে আসে প্লাটিলেট মাত্র ২২ হাজার। তাৎক্ষণিক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে আতঙ্কিত বাবা-মা জরুরি ভিত্তিতে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে রক্ত পরীক্ষার পর দেখা যায় প্লাটিলেট চার লাখ। 

এ ঘটনা ঘটেছে ৮ এপ্রিল। শিশু আদনান রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি আটাশ কলোনি এলাকার বাসিন্দা রিয়াদ হোসেনের ছেলে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। 
শিশুটির স্বজন জানান, ৮ এপ্রিল শিশু আদনানের জ্বর ও ঠান্ডার সমস্যা দেখা দেয়। বাবা রিয়াদ তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. রোমেনা আক্তার শিশুর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্লাটিলেট পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষার পর রিপোর্টে আসে মাত্র ২২ হাজার প্লাটিলেট। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে স্বাভাবিক প্লাটিলেটের পরিমাণ দেড় লাখ থেকে চার লাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক শিশুটির বাবাকে জানান, প্লাটিলেট এত কম হলে শরীরে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে। তিনি শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর উদ্বিগ্ন অভিভাবরা শিশুকে সেখানে নিয়ে যান। শয্যা না পেয়ে ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতাল আরোগ্য সদনে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে শিশুটিকে ভর্তি করানো হয়। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবার প্লাটিলেট পরীক্ষা করা হলে রিপোর্টে আসে চার লাখ, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এরপর সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে পরদিন বাড়ি ফেরে শিশুটি।
ক্ষোভ জানিয়ে শিশুর বাবা রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘সদর হাসপাতালের রিপোর্ট দেখে আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, সন্তানকে হারিয়ে ফেলব। কিন্তু ফরিদপুরে গিয়ে রিপোর্ট সম্পূর্ণ আলাদা এলো। রাতদিন তফাত। একটা সরকারি হাসপাতালে ভুল রিপোর্ট কেন আসবে?’ 

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘আমরা মেশিনে যা দেখি তাই লিখি। মেশিন যখন ২২ হাজার দেখাচ্ছে, আমি তো আর বেশি লিখতে পারি না। ভুলটা মেশিনের।’ 
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রোমেনা আক্তার বলেন, প্লাটিলেট ৫০ হাজারের নিচে নেমে এলেই তা বিপজ্জনক। সেখানে রিপোর্টে ২২ হাজার দেখে আমি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। এখন রিপোর্টেই যদি ভুল থাকে, তাহলে চিকিৎসক হিসেবে আমি কী করব? আমি তো রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিই। 
এ বিষয়ে রাজবাড়ী হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকার বলেন, শুধু মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্বাক্ষর করা রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিপোর্টগুলো ক্রস চেক করলে এ ধরনের ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে না। কিন্তু এই হাসপাতালে সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে রিপোর্ট যাচাই করার কেউ নেই। 
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, যন্ত্র অনেক সময় ভুল রিপোর্ট দিতে পারে। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে এবং ডেঙ্গু নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও প্লাটিলেট এত কম দেখানোয় চিকিৎসক যদি আরেকবার পরীক্ষা করাতে বলতেন অথবা মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ডেকে বিষয়টি ক্রস চেক করা হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। 
 

আরও পড়ুন

×