তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নড়াইলের লোহাগড়ায় জেলেদের মাঝে ৬০টি বকনা গরু বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লোহাগড়া উপজেলার দরিদ্র ৬০ জন জেলের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের মধ্যে বকনা গরু বিতরণ করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের দেওয়া সুবিধাভোগী জেলেদের তালিকা নিয়ে অনুসন্ধানে নামলে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে।
তালিকার ক্রম অনুসারে ৯ থেকে ১২ পর্যন্ত কথিত প্রত্যেক সুবিধাভোগী বকনা বাছুর পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ভুয়া নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া কথিত এসব সুবিধাভোগী কেউই জেলে নন। কেউ ইউপি সদস্য, কেউ সরকারি কর্মকর্তা এবং কেউ অন্য জেলার বাসিন্দা।
সুবিধাভোগী তালিকার ৯ নম্বর ক্রমিকে থাকা উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের বাসার মল্লিকের নামের পাশে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর নাম ইসরাফিল সরদার। তিনি পাচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নন, তাঁর বাড়ি মল্লিকপুর। তিনি কোনো গরু পাননি। ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা ধলাইতলা গ্রামের সুজন শেখের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, তাঁর নাম মো. নুরুজ্জামান। তিনি মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। সুবিধাভোগী তালিকার ১১ নম্বর ক্রমিকে থাকা খোকন শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলায়। তিনি কেন নড়াইলে গরু আনতে যাবেন। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তালিকার ১২ নম্বর সদস্য জুয়েল মোল্যার মোবাইল ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, তিনি সরকারি কর্মকর্তা, আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরি করেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
এ ছাড়া তালিকায় ১৭ নম্বর সদস্য রুপাইয়ের বাড়ি গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর চাচাতো ভাই লিমন সিকদার বলেন, রুপাই কোনো গরু পায়নি। তালিকায় ২২ নম্বরে থাকা ঘাঘা গ্রামের জিন্না মোল্যা জানান, তিনি কোনো গরু পাননি। একই গ্রামের কচি বিশ্বাস বলেন, তিনি গ্রামের শহিদ বিশ্বাসকে ২ হাজার টাকা দিয়ে ছোট একটি অসুস্থ বাছুর পেয়েছেন; যার দাম ২০ হাজার টাকার মতো হতে পারে। ২৭ নম্বরে থাকা মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ছাগলের মতো ছোট একটা বকনা বাছুর পেয়েছেন; যার দাম আনুমানিক ২০/২২ হাজার টাকা। এই বাছুর পেতে অফিস খরচের কথা বলে ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তি ৯ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, সুবিধাভোগীর নামের পাশে বর্ণিত মোবাইল নম্বর ভুল হতে পারে। অনেক আগের তালিকা। এ কারণে ভুল হতে পারে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মৎস্য কর্মকর্তার ব্যাপার। যদি কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি হয়ে থাকে তাঁর জন্য তিনি দায়ী।
এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তর গোপালগঞ্জ জোনের প্রকল্প পরিচালক মো. খালিদুজ্জামান বলেন, জোনভুক্ত প্রতিটি উপজেলায় ৬০টি করে বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ভোক্তাদের হাতে গরু দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতিটি গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা ৩৪ হাজার টাকার মধ্যে দিয়েছে।
- বিষয় :
- কমিটি গঠন
