ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গুদামে দখলে এসে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে হামলা

পাথরঘাটায় উভয়পক্ষের সাতজন আহত

গুদামে দখলে এসে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে হামলা
×

গুদামের মালপত্র পুকুরে ফেলে দিচ্ছে হামলাকারীরা। শনিবার সকালে পাথরঘাটা বাজারের পূর্ব মাথায় মাংসের দোকান সংলগ্ন এলাকায়। ছবি: সমকাল

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫৪

বরগুনার পাথরঘাটায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি পানের গুদামের কিছু অংশ ভেঙে মালপত্রসহ পুকুরে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। তাদের বাধা দিতে এলে নারী ও কিশোরেরা মরিচের গুঁড়া ছিটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

হামলায় আহত উভয়পক্ষের ব্যক্তিরা হলেন– মিজানুর রহমান, তাঁর ভাবি হাফিজা বেগম, মো. সোহাগ, মুছা, রকি, তাছলিমা ও খাদিজা।

আহত মিজানুর রহমানের ভাষ্য, তারা পাথরঘাটা বাজারের পূর্ব মাথায় মাংসের দোকান সংলগ্ন এলাকায় কেনা এক শতাংশ জমিতে ৫২ বছর ধরে ঘর তুলে বসবাস করছেন। ঘরের সামনের অংশ পানের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁর প্রতিবেশী মৃত হামেজ খানের ছেলেমেয়েরা ঘরটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। 

তাঁর ভাষ্য, শনিবার সকালে তারা ঘরটির চালা মেরামত শুরু করেন। তখন প্রতিপক্ষ পরিবারের একদল নারী ও কিশোর তাদের শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটাতে থাকেন। এ সময় তাদের মারধর করে ঘরটির একাংশ ভেঙে পুকুরে ফেলে দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রতিপক্ষ পরিবারের মৃত হামেজ খানের মেয়ে তাছলিমার দাবি, ‘ওই জায়গা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। ওরা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। প্রশাসনের কাছে গিয়েও আমরা পাত্তা পাইনা। সেই জায়গা উদ্ধারে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঝামেলা চলছে। হামেজ খানের ছেলেমেয়েরা একের পর এক অন্যের জমি দখল করে আসছে। একইভাবে মিজানের জমিও দখল করতে চেয়েছিলেন তারা। এ নিয়েই সমস্যাটি হয়েছে। তারা অনেকবার সালিশ করেছেন। তবে বিষয়টি একপক্ষ না মানায় বারবার ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। 

বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হকের মোবাইল ফোনে কয়েক দফায় কল দিলেও ধরেননি। ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ বলেন, ঘর দখলের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছেন। সেখানেই বিষয়টির সমাধান হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আহত হাফিজা বেগম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

আরও পড়ুন

×