যুবদল নেতাকে না পেয়ে বাড়িতে লুট, অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে বক্তব্য দেন শারমিন আক্তার। ছবি: সমকাল
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৫
চট্টগ্রামের রাউজানে আসামিকে না পেয়ে তাঁর বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন শারমিন আক্তার নামের এক নারী।
তাঁর স্বামী জানে আলম ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। তাঁকে ধরতে গিয়েই শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাণ্ডব চালায় বলে জানান ওই নারী।
লিখিত বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে রাউজান থানা পুলিশের পরিচয়ে একদল লোক আমার স্বামী জানে আলমকে আটকের অজুহাতে আমাদের ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে ছিলাম না। এই সুযোগে পুলিশ ঘরের আলমিরা ও শোকেস ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও দুটি দামি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে।’
তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে বাড়িতে ফিরে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী না পেয়ে বিষয়টি জানতে চান পুলিশ পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের কাছে। কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে চলে যান।
শারমিনের ভাষ্য, ‘আমার স্বামীকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এখন আমাদের পরিবারও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।’ এভাবে নির্যাতন, হয়রানি ও ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানান তিনি।
রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজান সাহিলের ভাষ্য, তিনি কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জানে আলমের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও লুটপাটের বিষয়টি জানতেন না। এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, যুবদল নেতা জানে আলমের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ডাকাতি, দুইটি অস্ত্র আইনে, দুটি ডাকাতির প্রস্তুতি, একটি ধর্ষণ মামলাও আছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানে আলমের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, সংবাদ সম্মেলনে করার অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। জানে আলমের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে আটক করতে ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘরে তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় স্থানীয় লোকজনকে স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছিলো।
