নিহত মায়ের পাশে যন্ত্রণার রাত কাটাল শিশু আবির
ছবি: সংগৃহীত
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গভীর রাতে ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেই দৃশ্য দেখে ফেলায় কোপানো হয় ৮ বছরের শিশু আবিরকেও। মায়ের মরদেহের পাশে নিজের শরীরের ক্ষত নিয়ে রাতটি কাটিয়েছে এই শিশু। ভোর হলে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে আবির।
গতকাল শনিবার সকালে তাকে নেওয়া হয় ভোলা সদর হাসপাতালে। একই উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সরদার বাড়িতে ঘটে এ নির্মম ঘটনা। শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা ওমানপ্রবাসী আল আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৪০) নিজ কক্ষে কুপিয়ে হত্যা করে।
আল আমিন প্রায় ১৫ বছর ধরে ওমান আছেন। তাঁর স্ত্রী নাসিমাও কিছুদিন ওমানে ছিলেন।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আবিরকে নিয়ে শুক্রবার রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন নাসিমা বেগম। গভীর রাতে ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা নাসিমাকে কুপিয়ে হত্যা করে। আবির বিষয়টি টের পাওয়ায় তাকেও কুপিয়ে জখম করে। মৃত ভেবে শিশুটিকে ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা।
প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিন বলেন, ফজরের আজানের পর আবির ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের ডেকে আনে। তখন বিষয়টি তারা জানতে পারেন। চিকিৎসার জন্য আবিরকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
চিকিৎসাধীন আবিরের ভাষ্য, প্রতিবেশী জামাল মেম্বারের ছেলে জিহাদ তার মাকে কুপিয়ে মেরেছে। সেই দৃশ্য দেখে ফেলায় তাকেও কুপিয়েছে। পরে তারা মারা গেছে ভেবে জিহাদ চলে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের দরজা বন্ধ করে সারারাত একাই সে মায়ের লাশের পাশে বসে ছিল।
এলাকাবাসী জানান, আবির যে জিহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তার বাবা একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জামালউদ্দিন ঘটনার এক দিন আগে মারা গেছেন। শুক্রবারই তার দাফন হয়েছে।
সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জিহাদ (২৩) নামে এক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন শিশুটি তাকে শনাক্ত করেছে। মামলা হলেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
- বিষয় :
- নিহত
