জমির বিরোধে কলেজছাত্র খুন
প্রতীকী ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ডাকাতিকালে গৃহকর্তার প্রতিরোধে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন আরও দুজন। গত শনিবার রাতে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত দুলাল রাঢ়ী (২৬) বরিশালের হিজলা উপজেলার বিশোর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন গৃহকর্তা নাজমুল হাসান উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তাঁর ছেলে মিশকাত বাহাদুর (১৯)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজমুল হাসান উজ্জ্বল বাহাদুর স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। শনিবার দেড়টার দিকে সাত-আটজন সশস্ত্র ডাকাত তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উজ্জ্বল বাহাদুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাতরা তাঁকে কোপাতে থাকলে পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। এক পর্যায়ে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। এ সময় অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ডাকাত দলের সদস্য দুলাল রাঢ়ী, গৃহকর্তা উজ্জ্বল বাহাদুর ও তাঁর ছেলে মিশকাতকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা দুলাল রাঢ়ীকে মৃত ঘোষণা করেন।
জমির বিরোধে প্রাণহানি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, বেগমপুরের খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পক্ষ জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে মঞ্জুর মিয়াসহ ২০ জন আহত হন। তাদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২) ও মামুন মিয়ার (২৬) নাম জানা গেছে।
নবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিঞা বলেন, সরকারি জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে রোববার সকালের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়া নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
প্রাইভেটকারে উঠে গেল প্রাণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে আতিকুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার পাকুল্যা ফিলিং স্টেশনের পূর্বপাশে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
আতিকুর রহমান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী শারমিন রহমান গাজীপুরের মৌচাকের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেখানেই থাকেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেলে আতিকুর রহমান মৌচাক যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাস থেকে একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন। রাতে স্থানীয় লোকজন হাত বাঁধা অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে সংবাদ দেয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে আতিকুরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের ধারণা, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সবকিছু লুটে তাঁকে হত্যা করে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঝুলন্ত লাশ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শ্বশুরবাড়িতে পাওয়া গেছে সুমাইয়া আক্তার রাহিমা নামের এক নারীর লাশ। স্বজনদের অভিযোগ, বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে।
রাহিমা টাঙ্গাইল সদরের মগড়া ইউনিয়নের চৌধুরী মালঞ্চ গ্রামের রপচার মিয়ার মেয়ে। তাঁর চাচা উজ্জ্বল হোসেন জানান, পাঁচ মাস আগে দেলদুয়ারের পাথরাইল ইউনিয়নের দশাকিয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সাদির সঙ্গে তাঁর ভাতিজির বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে রাহিমার সম্পর্কের অবনতি হয়। দেড় মাস আগে সাদি দুবাই চলে যান। শনিবার গভীর রাতে ঘরের ধরনার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রাহিমার লাশ পাওয়া যায়।
উজ্জ্বল হোসেন বলেন, রাহিমা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এ অবস্থায় কোনোভাবেই সে আত্মহত্যা করতে পারে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন উজ্জ্বল হোসেন।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার রামশীল ইউনিয়নের খাগবাড়ী গ্রামের মনোতোষ ঘটকের সঙ্গে প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ ঘটকের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার বিকেলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে গৌরাঙ্গ ও তাঁর স্ত্রী পুতুল মিলে মনোতোষকে মারধর করেন। পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মনোতোষ খাগবাড়ী গ্রামের মৃত সিদ্ধেশ্বর ঘটকের ছেলে।
- বিষয় :
- পিরোজপুর
