ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রামেক হাসপাতালে মব করে চিকিৎসকদের হেনস্তা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রামেক হাসপাতালে মব করে চিকিৎসকদের হেনস্তা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি
×

মব সৃষ্টি করে হামলার প্রতিবাদে ও সঠিক কর্মপরিবেশের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ছবি : শরিফুল ইসলাম তোতা

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:২২

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সকালে কর্মবিরতি শুরুর পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন পালন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নিরাপত্তার অভাব এবং কর্মস্থলে বারবার লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, গত রোববার রাতে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসককে এবং সোমবার সন্ধ্যায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে রোগীর স্বজনরা মব সৃষ্টি করে হেনস্তা করে।

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির জানান, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। কিন্তু বিনিময়ে তাদের বারবার হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমরা এই কর্মবিরতি পালন করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে থাকায় সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ট্রেইনি চিকিৎসক এবং মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি বিস্তারিত জানাবেন। চিকিৎসকদের এই আন্দোলনে সাধারণ রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তবে চিকিৎসকরা বলছেন– নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে কাজে ফেরা কঠিন।

আরও পড়ুন

×