শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষা দিলো বিথী
হাত ভাঙার ঘটনায় মামলা
আহত বিথী আক্তার (ডান হাতে ব্যান্ডেজ) শ্রুতিলেখকের সহায়তায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়ার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ছবি: সমকাল
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৩৯ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৩৯
চাচার হামলায় হাত ভেঙেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী বিথী আক্তারের। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর হস্তক্ষেপে শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এই কিশোরী। হামলার ঘটনায় বুধবার রাতে তার বাবা বাদল হাওলাদার মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।
আহত বীথি আক্তার (১৫) উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারীকাঠি গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে। সে তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, বিথী তাঁর বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। তার ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাদল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ রয়েছে তাঁর চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামের। মঙ্গলবার দুপুরে বাদলের স্ত্রী পারভীন বেগম রান্না করছিলেন। এ সময় ধোঁয়া নজরুলের বসতঘরে গেলে তাঁর সঙ্গে নজরুলের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে নজরুল আসবাব ও হাঁড়িপাতিল ভাঙচুর করেন। বীথি আক্তার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়ে বিকেলে বাড়ি ফেরার পর ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়। এতে বীথির ডান হাত ভেঙে যায়।
ওই কিশোরী বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বিষয়টি জানতে পেরে মঠবাড়িয়ার ইউএনও আকলিমা আক্তার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জি এম শহিদুল ইসলামের কাছে বিশেষ আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার মরিয়ম বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় বিথীর শ্রুতিলেখক হিসেবে অংশ নেয়। শারীরিক যন্ত্রণা থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় বিথী ও তাঁর পরিবার। বিথী জানায়, হাতে প্রচণ্ড ব্যথা আছে। ব্যান্ডেজ নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে বুধবার রাতে বাড়ি ফেরে। পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবার হাসপাতালে রওয়ানা হয়।
তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বিথী। তার সঙ্গে শ্রুতিলেখক হিসেবে ছিলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদল হাওলাদার বাদী হয়ে চাচাত ভাই নজরুলকে প্রধান আসামি ও চারজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ২-৩ জনকে। পুলিশ রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি নবী হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ইউএনও আকলিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। মেয়েটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনোভাবেই যেন ওই কিশোরী ঝরে না পড়ে, সেজন্য একজন শ্রুতিলেখক নিয়োগে সহায়তা করা হয়েছে।’
