ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরির খবর নেই

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরির খবর নেই
×

নির্মাণাধীন বর্জ্য শোধনাগার

 হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৮ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা মহানগরীর প্রধান কয়েকটি সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে বর্জ্য। নাক চেপে রুদ্ধশ্বাসে জায়গাগুলো পার হতে হয়। কয়েক যুগ ধরে চলছে এ অবস্থা। এর মধ্যে ২০১৯ সালে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পক্ষ থেকে এসব বর্জ্য দিয়ে সার, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই উদ্যোগে অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ২০২২ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাক সম্ভাব্যতা, পরিবেশ ছাড়পত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর চার দফা সময় বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময় বাড়িয়ে কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এখনও ৪০ শতাংশ কাজ বাকি। ৩০ জুনও কাজ শেষ করার সম্ভব নয়। কবে প্রকল্পে থেকে সার, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে– সেটাই এখন প্রশ্ন।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, প্রায় ১০ লাখ মানুষের খুলনা নগরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ২০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে কেসিসি। এর বেশির ভাগই রাজবাঁধ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হয়। বাকিটা সড়কের পাশে পড়ে থাকে। কিছু ড্রেন, খাল নিয়ে নদীতে চলে যায়। বিপুল পরিমাণ বর্জ্য শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েই এই প্রকল্প শুরু হয়। কাগজে-কলমে প্রকল্পের নাম ‘ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্চ রিকভারি ফ্যাসিলিটি শলুয়া’।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর (সিআরডিপি) আওতায় নগরীর পার্শ্ববর্তী শলুয়ায় বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। এটি তদারকির দায়িত্ব কেসিসির। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫২ কোটি টাকা। কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য দিয়ে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদন করা হবে। 

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, সব কাজ হবে যন্ত্রের মাধ্যমে। শুধু যন্ত্র পরিচালনা, প্লান্ট ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক স্তরের কাজের জন্য ৩০ জন শ্রমিক এবং আটজন সুপারভাইজার কাজ করবেন। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্লান্টেই ব্যবহার করা হবে। কম্পোস্ট সার ও ডিজেল বিক্রি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান জানান, প্রকল্পের মূল তিনটি অংশের মধ্যে কম্পোস্ট প্লান্টের দুটি শেডের কাজ শেষের পথে। যন্ত্রপাতি চলে আসছে, সংযোজন চলছে। বর্জ্য শোধনের জন্য মাটির নিচে ১২টি লিসেট কালেকশন পিট নির্মাণ হবে। এর ১১টিই বাকি রয়েছে। গ্যাস চেম্বারের কাজ প্রায় শেষ। তবে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ল্যাবরেটরি, রাস্তা ও ড্রেনের কাজ বাকি রয়েছে। মূল ভবনের কাঠামো হলেও ভেতরের সব কাজ বাকি।

তিনি বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে না হলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ঠিকাদারকে এখন পর্যন্ত ২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৬ শতাংশ।

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের সময় প্রকল্পটি উদাহরণ হতে পারত। সময়মতো কাজ শেষ হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও ডিজেল কাজে লাগানো যেত। বারবার সময়ক্ষেপণ করায় আমরা বিব্রত। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঢাকার সাভারের বলিয়ারপুরে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থেকে খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। গত ৩ মার্চ ডিএনসিসির বর্জ্য ডিসপোজাল এরিয়া আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি উৎপাদন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ব্রিনগিয়া এনার্জি গ্লোবাল এলএলসি (বিইজি) এবং কানাডাভিত্তিক কোম্পানি ডিরাপটেড হাইড্রোজেন টেকনোলজি (ডিএইচটি)। গত বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে কোম্পানি দুটি। চুক্তির শর্ত অনুসারে, চসিকের সরবরাহ করা তিন হাজার টন বর্জ্য থেকে বছরে ৪৫ মিলিয়ন গ্যালন পরিবেশবান্ধব ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করবে দুই কোম্পানি।

আরও পড়ুন

×