ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সঙ্গী সরতেই দেহাংশ কেটে নেওয়া হলো মৃত হাতিটির

সঙ্গী সরতেই দেহাংশ কেটে নেওয়া হলো মৃত হাতিটির
×

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটির লংগদুর গহিন অরণ্যে মারা যাওয়া পুরুষ হাতিটির পায়ের একাংশ ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় মারা যায় ৬০ বছর বয়সী হাতিটি। গতকাল সোমবার সকালে হাতিটির দেহাংশ কেটে নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। 

স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার জন্য বন বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে গভীর জঙ্গলে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। 

হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিল। কাছালংমুখ বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীর ভাষ্য, হাতিটি অসুস্থ ছিল। শরীরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন ছিল। এ ছাড়া সে শারীরিকভাবেও দুর্বল ছিল। বেশ কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে হাতিটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে।
শনিবার রাতে হাতিটি মারা যায় বলে ধারণা করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। ৬০ বছর বয়সী হাতিটি ওই এলাকায় সবচেয়ে বড় ও বয়স্ক পুরুষ হাতি। তার সঙ্গে সবসময় একটা নারী হাতি থাকত, রোববার দিনভর মৃতদেহের পাশে সেই নারী হাতিটিকে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, রাতে ঝড়বৃষ্টির সময় নারী হাতিটি ভাসন্যাদাম ছেড়ে বরুণছড়ির দিকে চলে যায়। সেই সুযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মৃত হাতির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নেয়। 

ভাসান্যাদম এলাকায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য জয়নাল বলেন, রোববার রাতে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। রাত ২টা থেকে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা হাতিটির মাংস কেটে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতা ছিল বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, এটা অকল্পনীয় ঘটনা। বন বিভাগের উচিত ছিল হাতির মরদেহটি নিয়মিত পাহারা দেওয়া। স্থানীয় বনকর্মীদের অবহেলায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এখন মানুষের কাছে বার্তা যাবে যে, হাতির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো খুব দামি এবং এগুলো নেওয়া যায়। 
তিনি আরও বলেন, সাধারণত মৃত হাতির পাশে তাদের সঙ্গী হাতিগুলো থাকে। তারা শোক প্রকাশ করে। তাই মৃত হাতির পাশে সঙ্গী হাতিটি ছিল। তবে কয়েকটি ভিডিওতে সেই সঙ্গী হাতিটিকে স্থানীয় লোকজন তাড়া করছেন–এমন দেখা গেছে। এটি খুবই অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে বন বিভাগের দেখভাল করার কথা ছিল। 
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্‌ বলেন, ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখানে লোকজনের পাহারা দেওয়া সম্ভব ছিল না। বন বিভাগের লোকজন, জেলা ও উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জনেরা ঘটনাস্থলে গেছেন। মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত ও ঘটনার অনুসন্ধানে নেমেছেন তারা। জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×