ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তলিয়ে যাওয়া পন্টুন উদ্ধারে ডুবুরি দল

তলিয়ে যাওয়া পন্টুন  উদ্ধারে ডুবুরি দল
×

 গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলা সড়কে এক সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরি। ২০০৫ সালে চালু হওয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই ফেরি যাতায়াতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

২০১৭ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ হয়ে গেলে উভয় পারের পন্টুনও অব্যবহৃত রয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবহেলায় পন্টুন দুটি ক্রমে পানিতে তলিয়ে যায়।
জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-শিকপুর এলাকায় এক সময়ে ব্যস্ততম এই ফেরি দিয়ে শত শত যানবাহন ও মানুষ পারাপার হতো। তাছাড়া এই ফেরি ব্যবহার করে বহরগ্রাম, ছত্রিশ, কালিজুরী, বানিগ্রাম, বাগিরঘাট, বহর, বনগ্রাম, কালিঢহর, কোনাগ্রাম, আওই, বানিগাজী, কটলিপাড়া, চন্দরপুর, লামা চন্দরপুর, আছিরগঞ্জ, খাগাইল, হলিমপুর, দেবারাই, আমকোনা, নোয়াই, মোল্লারচক, ছয়গরি, বাগলা, সোনারপাড়া, কেওটকোনা, বাদেপাশা, কালাইম, মীরের চক, তিলপাড়া, মাথিউরা, পুরুষপালসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করত মানুষ।

এছাড়া বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জুড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতে জনপ্রিয় ছিল এই পথ। নদীর দুই পারের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে সময়ের পরিবর্তনে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা কমতে থাকে।

২০১৫ সালের ২০ আগস্ট চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু চালু হওয়ার পর ফেরির উপযোগিতা দ্রুত কমতে থাকে। অপরদিকে সেতু চালু হওয়ায় মানুষ সহজে ও দ্রুত যাতায়াতে সুযোগ পেলে অবহেলিত হয়ে পড়ে ফেরি। ফেরিতেও দেখা দেয় যান্ত্রিক ত্রুটি। পাশাপাশি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে সার্ভিসটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় নদীর পূর্ব ও দক্ষিণ পারে দুটি পন্টুন ছিল। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবহেলার কারণে ওই দুটি পন্টুন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং একপর্যায়ে কুশিয়ারা নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। কারণ, এটি শুধু অবকাঠামোর ক্ষতি নয় বরং সম্ভাবনার অপচয় হিসেবেও বিবেচিত হয়।
দীর্ঘ দশ বছর পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে তলিয়ে যাওয়া পন্টুনটি ডুবুরির মাধ্যমে নদী থেকে উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের মনে প্রশ্ন, এতদিন অবহেলা কেন করা হলো স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণে। সচেতন নাগরিকদের মতে এই পন্টুন সময়মতো উদ্ধার করে কুশিয়ারা জনপদের বিভিন্ন খেয়াঘাটে ব্যবহার হলে উন্নত সেবা দেওয়া যাবে। যেমন আছিরগঞ্জ, বাগলা, ডেপুটি বাজার, কাদিপুর, মিরগঞ্জ স্থানান্তর হলে তিনটি ইউনিয়নসহ বড়লেখা, জুড়ি ও বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। স্বাধীনতার পর থেকে কুশিয়ারা জনপদের মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে ভোগান্তির শিকার। এর আগে  স্থানীয়দের জন্য নদী পারাপার ছিল সময়সাপেক্ষ।
 

আরও পড়ুন

×