ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নৌ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নৌ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
×

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লুৎফুলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোংলা শহর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসির বিরুদ্ধে নৌপথে ডিউটির নামে সরকারি তেল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 
পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তা লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার ডা. মনজুর মোর্শেদ। 

জানা গেছে, মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এই কর্মকর্তা নৌ পুলিশের খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়াভাবে এ চাঁদাবাজি ও ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, তেল দোকানদার, বাল্কহেড মালিক, মাদক কারবারি, নৌযান স্টাফ ও ট্রলার মাঝি, বিদেশি জাহাজ ও লাইটার কার্গোকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা চোরাকারবারি চক্র ও নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার থেকে নির্ধারিত হারে মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের অডিও ও ভিডিওর প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। 

বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশের পরিদর্শক এ এইচ এম লুৎফুল কবির প্রায় দেড় বছর আগে মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হিসেবে যোগ দেন। এখানে যোগদান করেই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। শহরের মাদ্রাসা রোড, রকেট ঘাট, কুমারখালী, আনসার ক্লাব এলাকা, জেটি ঘাট, মামার ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই চাঁদা আদায় চলছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এমনকি বাল্কহেড সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এককালীন মাসিক ৬৫ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। সূত্র জানায়, নৌ পুলিশের খুলনা অঞ্চলের এসপি ডা. মনজুর মোর্শেদের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামে বণ্টন দেখিয়ে বাকি অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য বরাদ্দাকৃত মাসিক ৩০০ লিটার জ্বালানি তেল সরকারি কাজে ব্যবহার না করে এর অধিকাংশই বিক্রি করে অর্থ ভাগাভাগি করা হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান, ওসিকে নির্ধারিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি, হুমকি ও ব্যবসায়িক বাধার মুখে পড়তে হয়। এতে এলাকায় এক ধরনের নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবির বলেন, তিনি কোনো চাঁদাবাজি বা ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। এ-সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে জানালে তিনি তা যাচাই-বাছাই করে দেখতে বলেন।
এ বিষয়ে নৌ পুলিশের খুলনা অঞ্চলের এসপি ডা. মনজুর মোর্শেদ সমকালকে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ পুলিশের একজন এএসপি এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। খুব শিগগির তাঁর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×