এক সেতুতে বদলে যেতে পারে অবহেলিত গ্রাম
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের অন্তর্গত কালাইম গ্রামটি একটি সেতুর কারণে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ গ্রামটিকে কৃষি খাতের জন্য অনন্য বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই গ্রামটি তিনটি উপজেলা–গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশাসনিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা ক্ষেত্রে গ্রামবাসীকে প্রতিনিয়ত ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু একটি সেতু এই গ্রামের বাস্তব চিত্র বদলে দিতে পারে। গ্রামের প্রধান সমস্যা হলো বরুদল নদী। এ নদীতে কালাইম গ্রাম অংশে সেতু না থাকায় গ্রামটি মূলত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এই নদীর কারণে গ্রামের মানুষ একে অপরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারছে না। তাদের প্রশাসনিক কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপজেলায় যেতে হচ্ছে। তাদের কেউ গোলাপগঞ্জে, কেউ বিয়ানীবাজারে, আবার কেউ বড়লেখায় যেতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারণ করে। যদিও কৃষি উৎপাদনে কালাইম গ্রামের সুনাম রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে তাদের আর্থিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেগুলোর সুযোগ-সুবিধা সীমিত। উন্নত চিকিৎসা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামের মানুষকে দূরের উপজেলায় যেতে হয়, যা সহজ নয়। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নদী পারাপারের ঝুঁকি অনেক সময় জীবন সংকটময় করে তোলে।
গ্রামে বিদ্যুৎসংযোগ থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির কিছু সুবিধা গ্রামবাসী পাচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা হলেও আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দিয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এসব সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন কার্যক্রমেও গ্রামবাসীর দুর্ভোগ স্পষ্ট। ভোট দিতে বা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়, যা বৃদ্ধ, নারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকেও বাধাগ্রস্ত করছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলে বিভিন্ন প্রার্থী সেতু নির্মাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। প্রতিশ্রুতির আর বাস্তবায়ন হয় না। ফলে যুগের পর যুগ এই কালাইম গ্রামের মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়ে আছেন। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারে অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
শাহাবুদ্দিন নামে গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, নদী পারাপারের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। এই সম্ভাবনাময় জনপদটি একটি সেতু পেলে তাদের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
- বিষয় :
- সেতু
