ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভাঙনকবলিত সন্ধ্যা নদীতে আবারও বালুমহাল ইজারা

ভাঙনকবলিত সন্ধ্যা নদীতে আবারও বালুমহাল ইজারা
×

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেওয়া সত্ত্বেও সন্ধ্যা নদীতে আবার বালুমহাল ইজারা দিয়েছে প্রশাসন। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

গতকাল বুধবার ও মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খেজুরবাড়ী, গোয়াইলবাড়ী ও খোদাবখশা; বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল, বাংলাবাজার, নাটুয়ারপাড়, শিয়ালকাঠী, উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট ও ডুমুরিয়া; সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ী, সাতবাড়িয়া, পূর্ব জিরারকাঠী, দাসেরহাট, দিদিহার ও নলশ্রী; সদর ইউনিয়নের জম্বুদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী ও কাজলাহার; চাখার ইউনিয়নের চাউলাবাঠী, চিরাপাড়া, কালিরবাজার, হক সাহেবের হাট প্রভৃতি এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে সিংহভাগই গ্রাস করে ফেলেছে এই নদী। 

এ ছাড়া নদীভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে বানারীপাড়ার শিয়ালকাঠী ফেরিঘাট, উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদ, মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোদাবখশা দাখিল মাদ্রাসা, কালিরবাজার, জম্বুদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। এর মধ্যে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দান্ডয়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, উত্তরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোদাবখশা দাখিল মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসা চার থেকে পাঁচবার স্থানান্তর করতে হয়েছে। 

বানারীপাড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার বহু এলাকাও পড়েছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে। উজিরপুরের শিকারপুর, দাসেরহাট, লস্করপুর, চতলবাড়ী, ডাবেরকুলসহ বহু এলাকায় নদীভাঙনে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, বসতঘরসহ বহু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
জানা গেছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় জনসাধারণের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ৬টি পয়েন্টে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩টি পয়েন্টের বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। সম্প্রতি বরিশাল জেলা প্রশাসন সন্ধ্যা নদীতে আবারও বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এ সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ী ও মসজিদবাড়ীর পয়েন্টে যথাক্রমে দুই একর ও সাত একর নদীর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। বরিশালের রূপাতলীর মুসলিম ট্রেডার্স এ বালুমহাল দুটির ইজারা পেয়েছে। 

উপজেলার মসজিদবাড়ীর যে পয়েন্টে বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেই পয়েন্টে একাধিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ, রাস্তাঘাট, মসজিদসহ নানা স্থাপনা নদীতে বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

গত বছর এ নদীতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় বালুমহাল ইজারা বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নদীতে ব্লক দিয়ে ও জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙনের হাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা না করে উল্টো বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। 

ক্ষোভ জানিয়ে নদীভাঙনকবলিত এলাকার বিশিষ্টজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনকবলিত নদীতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে বালুমহাল ঘোষণা করে! বালু তোলার কারণে তাদের এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন রোধে তারা যেখানে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছেন, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বালু তোলার ব্যবস্থা করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে চাচ্ছে। 

ইউএনও মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলার মধ্যে শুধু বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে দুটি পয়েন্টে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজে বালুর চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে বৈধ বালুমহাল ইজারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×