ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল ৬০০ একর জমির বোরো ধান

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল ৬০০ একর জমির বোরো ধান
×

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ক্ষেতের বোরো ধান। প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার মির্জাপুর ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিক্ষোভ সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ০১ মে ২০২৬ | ১০:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জাপুরে পাঁচটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫০০ থেকে ৬০০ একর জমির বোরো ধান পুড়ে গেছে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন দুই শতাধিক কৃষক।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া চড়াপাড়া, বুধিরপাড়া, মন্দিরাপাড়া, ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় ও ভাওড়া গ্রামে এক থেকে দেড় হাজার একর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এসব জমির ধান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাটার কথা। কিন্তু ধানগুলো পাকা শুরু করলে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, গোড়াই ও বহুরিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ফসলি জমির মধ্যে পাশাপাশি ২০ থেকে ২৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে এফবিসি, আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকসের ইট পোড়ানোর মৌসুম শেষ হয়েছে, ফলে সপ্তাহখানেক আগে এসব ভাটা বন্ধ করা হয়। এসব ভাটার আগুন নেভানোর সময় বিষাক্ত ধোঁয়া চারপাশের ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুড়ে যায় কয়েকশ একর জমির বোরো ধান। এসব জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুই শতাধিক কৃষক বৃহস্পতিবার তাদের জমির ধান ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

বুধিরপাড়া গ্রামের বিধবা ফাহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। এই জমি থেকে এক বছরের ধান তাঁর ঘরে ওঠে। এবার ইটভাটার ধোঁয়ায় জমির ধানগাছ পুড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে আগামী বছর কী খাবেন এই আক্ষেপ করেন তিনি।

মন্দিরাপাড়া গ্রামের কৃষক নুরতাজ হোসেন স্বপন বলেন, সারাবছর খাওয়ার ধান যে জমি থেকে আসে, সেই জমির ধান ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে গেছে। আগামী এক বছর কীভাবে চলবেন, এই বলেই কান্নায় বেঙে পড়েন তিনি।

এফবিসি ব্রিকসের মালিক আকবর হোসেনের ভাষ্য, তাদের ভাটার ধোঁয়া গত দুই সপ্তাহ আগে ছাড়া হয়েছে। আর কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে তিন-চার দিনের মধ্যে। এ ছাড়া আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকসের ধোঁয়াও ছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরইউবি ব্রিকসের মালিক ইব্রাহিম মিয়া জানান, শুধু তাঁর ইটভাটার ধোঁয়া নয়, আরও কয়েকটি ভাটা ইট পোড়ানোর মৌসুম শেষে বন্ধ করা হয়েছে। ওইসব ভাটার ধোঁয়াও ছাড়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে ইটভাটা মালিক সমিতির নেতাদের কথা হয়েছে। তারা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

হাদি ব্রিকসের মালিক স্বপন মিয়া বলেন, কৃষকদের অভিযোগের কথা শুনে বুধিরপাড়া সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা খাতুনের ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব তাঁর অফিস থেকে নিচে নেমে কৃষকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

×