ভারী বর্ষণে মহাসড়ক-সেতুর সংযোগ সড়কে ধস
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ভারী বর্ষণে বিপজ্জনকভাবে ধসে পড়েছে বলভদ্র সেতুর সংযোগ সড়ক। শুক্রবার তোলা সমকাল
হবিগঞ্জ ও মাধবপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা-সংলগ্ন মহাসড়ক এবং মাধবপুর উপজেলা-সংলগ্ন লাখাইয়ে অবস্থিত বলভদ্র সেতুর সংযোগ ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেভাবে পুরাতন মহাসড়কে ধস ধরেছে, তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।
সিলেট-ঢাকা বিকল্প রুট হবিগঞ্জ-লাখাই-সরাইল-নাসিরনগর সড়কে অবস্থিত বলভদ্রপুর সেতু। গেল কয়েক দিনের টানা বর্ষণে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি অংশে সংযোগ সড়কের পশ্চিম পাশের কয়েক ফুট বলভদ্র নদীতে ধসে পড়ে। ধসে পড়া স্থানে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত থাকায় ভাঙন আরও বাড়ছে। সড়কের পিচ ধুয়ে গিয়ে ইট সরে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ইট, কংক্রিট ও মাটি ফেলে অস্থায়ী ভাঙা অংশ মেরামতের চেষ্টা করলেও বিপদমুক্ত হয়নি সড়কটি। তাদের অভিযোগ, আঞ্চলিক মহাসড়কটি চার বছর ধরে সংস্কার হয়নি। প্রতি বর্ষায় এ স্থানে ভাঙন দেখা দিলেও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। অনেক সময় স্থানীয়রা নিজেরা টাকা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেন এটি।
সরেজমিন দেখা যায়, ধসে যাওয়া সংযোগ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে ইট সরে যাচ্ছে। আর এসব স্থানে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ইট, কংক্রিট ও মাটি ফেলে অস্থায়ীভাবে মেরামতের চেষ্টা করেছেন। যদিও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তা আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
হবিগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, সড়কটি চার বছর ধরে সংস্কার হয়নি। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজের আওতাধীন। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংযোগের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত ব্লক ফেলে স্থায়ী মেরামত প্রয়োজন। নইলে বর্ষায় একই সমস্যা চলতে থাকবে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, এরই মধ্যে ব্রিজের কাছে ধস দেখা দেওয়া অংশ সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুতই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাধবপুরে মাটি ধসে হুমকির মুখে পড়েছে পুরোনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে মাটি ধসে পড়ায় হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট সংলগ্ন এই মহাসড়ক এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এভাবেই সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে চুনারুঘাট উপজেলার রামগঙ্গা ও চন্ডিচড়া চা বাগান-সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশের পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে প্রায় ১৫ ফুট গভীর গর্ত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সড়কের বড় অংশ ধসে গিয়ে পাশের ছড়ায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগানছড়া এলাকায় পরিবেশ নষ্ট করে নিচু স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে সুরমা চা বাগান এলাকায়। পাহাড়ি পানি সরাসরি সড়কের পাশে আঘাত হানায় ভাঙন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া বলেন, এই মহাসড়কের মাটি বালুমিশ্রিত হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে খুব সহজেই ধসে পড়ে। প্রতিবছর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। ফলে প্রতিবছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর রামগঙ্গা-চন্ডিচড়া মাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়কই ঝুঁকির মুখে পড়বে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল। এ সময় স্থানীয়রা তাঁর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। এমপি বলেন, সড়কের পাড় শক্তভাবে রক্ষা না করা হলে যে কোনো সময় এটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বিষয়টি সরাসরি অবহিত করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করতে আহ্বান জানান।
এমপির নির্দেশনার পর এরই মধ্যে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। তবে স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর হবে না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এমন ভাঙন দেখা দেয়। আপাতত বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পাকা গাইড ওয়াল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সড়ক ব্যবস্থায় এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- ভারী বর্ষণ
