ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যোগদান করেই বিতর্কের মুখে মহাপরিচালক

যোগদান করেই বিতর্কের  মুখে মহাপরিচালক
×

গাজীপুরে ব্রি’র মহাপরিচালকের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গতকাল সোমবার বিক্ষোভ সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির অভিযোগ কাঁধে নিয়ে বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে গত ২ এপ্রিল ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। এর দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান তিনি। ফলে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য হয়। এক মাস মহাপরিচালকবিহীন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট চলার পর গত রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশে কৃষিবিজ্ঞানী ড. আমিনুল ইসলামকে শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। 

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব নেন ড. আমিনুল ইসলাম। এর পরই শুরু হয় আন্দোলন। নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে দেখা দেয় উত্তেজনা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। প্রতিষ্ঠানের একাংশের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ডিজিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন। পাল্টা অবস্থান নেয় আরেকটি পক্ষ। তারা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া যথার্থ। সোমবার দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে পুরো ব্রি এলাকায়। সকাল থেকেই দুটি পক্ষ ব্যানার ও লোকজন নিয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহসভাপতি ড. এবিএম আনোয়ার উদ্দিন বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ডিজি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। ওই সরকারের কাছ থেকে প্রচুর সুবিধা নিয়েছেন। কুমিল্লায় দায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক ‎ড. হাবিবুর রহমান মুকুল বলেছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ডিজি আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বহু ফায়দা নিয়েছেন। তাঁকে ডিজি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করছেন।
নতুন ডিজি ড. আমিনুল ইসলামের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ডিজি না থাকায় গত মাসে বেতন পাননি তারা। এখন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দিয়েছে, এ জন্য তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য অবস্থান নিয়েছেন তারা। বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে যারা স্লোগান দিচ্ছেন, তারা দুর্নীতিবাজ।
ব্রির এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. আনোয়োর হোসেনের ভাষ্য, গত এক মাস মহাপরিচালক পদ শূন্য থাকায় প্রকল্পের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। নতুন ডিজির নেতৃত্বে সব কার্যক্রম, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ফিরে আসবে।

ব্রির একাধিক সূত্র বলছে, অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে ব্রির নানা প্রকল্পে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এক দল গজিয়েছে, যারা প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে মাসে মাসে টাকা আদায় করছে। নতুন ডিজি কোনো দলের নন। এই ডিজি থাকলে তারা লুটপাট চালাতে পারবেন না। এ কারণে ‘দোসর’ তকমা দিয়ে আন্দোলন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজ্ঞানী বলেন, মহাপরিচালকের শূন্য পদে নিয়োগ পেতে অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় বিধি মোতাবেক জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে ড. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে। দৌড়ঝাঁপ করা লোকজনই আন্দোলন করছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ সমকালকে জানান, ড. আমিনুল ইসলামকে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বের বিপরীতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×