ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছে চা শ্রমিকদের সংগঠন চা-শ্রমিক সংঘ। ১৫টি বাগানের চা শ্রমিক পরিবারের লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার শমসেরনগর কার্যালয়ে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
চা-শ্রমিক সংঘের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষ্মীমনি বাক্তি, দপ্তর সম্পাদক রামনারায়ণ গৌড়, প্রচার সম্পাদক কাজল হাজরা, শত্রুঘ্ন লোহার, সত্যনারায়ণ নাইড়, সবুজ বাউরী, শেফালী র্যালী, নিয়তি বাউরী প্রমুখ।
গত ২৭ মার্চ একজন চা শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুতে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন থেকে ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’-এর চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বড় বড় হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের অনভিপ্রেত ঘটনা প্রায়ই সংবাদে মাধ্যমে প্রকাশ হয়, আবার সেটি অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানও হয়। কিন্তু শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবাকে জিম্মি করে এভাবে হাসপাতাল বন্ধ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন। দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। তার ওপর ন্যূনতম যে চিকিৎসা ক্যামেলিয়া হাসপাতালে পাওয়া যেত তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্যর কশাঘাতে জর্জরিত মৌলিক অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ১৫ মের মধ্যে হাসপাতাল চালু না করা হলে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন চা শ্রমিক সংঘের নেতারা।
- বিষয় :
- হাসপাতাল
