ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় নিলেও সুফলের আশা

প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়  নিলেও সুফলের আশা
×

মুকিত রহমানী, সিলেট 

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১১:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম সিলেট সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার এ সফরকালে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিশ্রুতি দেন আরও বেশ কিছু বিষয়ে। 

কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছে সিলেটবাসী। আবার কেউ বলছেন, তাদের আরও প্রত্যাশা ছিল। বেশি প্রত্যাশা থাকলেও শহর রক্ষা প্রকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বাসিয়া নদীর খাল পুনর্খনন প্রকল্প উদ্বোধন ছিল মুখ্য আলোচনার বিষয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগলেও সুফল হবে দীর্ঘস্থায়ী। তবে এই মহাপ্রকল্প ছোট ছোট আবদার ঢেকে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। 

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সিলেটের উন্নয়নে নতুন আশার বার্তা। পিছিয়ে থাকা সিলেট এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগলেও দীর্ঘস্থায়ী সুফল আসবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করে বিএনপি। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পান বিএনপিদলীয় প্রার্থীরা। অভূতপূর্ব এই বিজয় সিলেটের বেশি বেশি পাওয়ার প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করছে। 

সুধীজনরা মনে করেন, সংসদ সদস্যদের তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে সিলেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। সরকারে দুজন মন্ত্রী, একজন হুইপ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকায় সিলেটের উন্নয়ন প্রত্যাশা ও স্বপ্ন বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী সিলেটে সুধী সমাবেশে কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুর্ভোগ কমানো, সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন চালু, আইটি পার্ক চালু, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর পর ১২শ শয্যায় উন্নীতকরণ ইত্যাদি। 

এর বাইরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার শহর রক্ষা প্রকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বাসিয়া নদীর খাল পুনর্খনন প্রকল্প উদ্বোধন ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। বাসিয়া নদীর তীরবর্তী কৃষকরাও পাবেন সুফল।

সূত্রমতে, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সামনে চলে আসে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের তাগিদ। আওয়ামী লীগের সময়ে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সর্বশেষ মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রকল্পটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন। দুই বছর আগে প্রকল্পটি পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। প্রকল্পটিতে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর সেটি অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে প্রকল্পটি এখনও একনেকে অনুমোদিত হয়নি। গত শনিবার সেই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীকে আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে এ মহাপ্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি থাকায় তাঁকে দিয়েই উদ্বোধন করানো হয়। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে সুরমা নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট বা স্লুইস গেট নির্মাণ, পাড় উঁচু করা ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা রয়েছে প্রকল্পে। বর্ষাকালে নদী উপচে নগরীর ছড়াগুলো দিয়ে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি করে। অতীতের বন্যার অভিজ্ঞতার আলোকে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সভা ও সেমিনার করা হয় দুই বছর আগে। প্রকল্পটিতে ৩৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ২০ কিমি রাস্তা নির্মাণ, ১৫ কিমি রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি ছাড়াও তিনটি স্থানে স্লুইস গেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০টি ফ্ল্যাপ গেট, ওয়াকওয়ে, স্লুইস গেটগুলোর পাশে পাম্প বসানোর কথাও বলা হয়।  
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর সমকালকে জানিয়েছেন, একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ফাইলটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে। এটি চার বছরের প্রকল্প। 

মেগা প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরে প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক তাহের বলেন, প্রকল্পটি সিলেটবাসীর জন্য একটি স্বপ্ন। এটি বাস্তবায়ন জরুরি। ভিত্তিপ্রস্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার দ্রুত তা বাস্তবায়ন করলে নগরবাসী বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। 

ভাষানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিভাগীয় সমন্বয়ক তালুকদার মকবুল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটবাসীর কাছের মানুষ। কারণ তাঁর শ্বশুরবাড়ি এখানে। তাই তাঁর কাছে সিলেটবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা বেশি। সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সঙ্গে হাওর অঞ্চলের আরও প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা ছিল। তবে যে প্রতিশ্রুতি তিনি সিলেটবাসীকে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হলে সুফল আসবে। বিশেষ করে, ২০২২ সালের বন্যার পর থেকে এ ধরনের একটি মেগা প্রকল্পের স্বপ্ন ছিল সিলেটবাসীর।

আরও পড়ুন

×