সুন্দরবনে দুদিনে ২২ জেলেকে অপহরণ
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুন্দরবনে দুই দিনে ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনী। গত রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও বাকিদের জিম্মি করে রেখেছে জলদস্যুরা। এ ঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি, মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ভর করেছে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, চার থেকে পাঁচদিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় তাদের ২৮ থেকে ৩০ সহযোগীকে অপহরণ করা হয়। তবে ২২ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা।
জিম্মি থাকা জেলেদের কয়েক স্বজন জানান, এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কোনো অঙ্ক জানায়নি। হয়তো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে নৌপথে মাত্র ১০–১২ মিনিট দূরত্বে থেকে তাদের কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে নানাভাই ও আলিম বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে জলদস্যুরা একেবারে লোকালয়ের পার্শ্ববর্তী অংশ থেকে জেলেদের তুলে নিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
জানতে চাইলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়ে তারা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন। শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, অপহরণের শিকার কোনো জেলের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাদের জানাননি।
- বিষয় :
- অপহরণ
