ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিয়োগপ্রার্থী নিজেই আবেদন যাচাইকারী

বেরোবিতে তিন পদে নিয়োগ

নিয়োগপ্রার্থী নিজেই আবেদন যাচাইকারী
×

 রংপুর অফিস

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৭:৫৮ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ০৭:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

যিনি নিয়োগপ্রার্থী, তিনিই আবার আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইকারী দলের সদস্য। শুধু তাই নয়, নিজেদের আবেদনপত্র যাচাই করে সেগুলোকে বৈধ হিসেবে সুপারিশও করেছেন দুই আবেদনকারী প্রার্থী। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চতুর্থ গ্রেডের তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আগামী ৯ মে সেই নিয়োগ বোর্ড বসার কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে এক প্রার্থী নিয়োগ স্থগিতের আবেদন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন শাখা), অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং অতিরিক্ত পরিচালক (সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও ইনফরমেশন সেন্টার)– এই তিনটি শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ওই পদগুলোতে আবেদনকারী প্রার্থীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রক্টর ফেরদৌস রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ। কমিটির দুই সদস্য হলেন– অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. ময়নুল আজাদ (কাউন্সিল শাখা) এবং উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম (সংস্থাপন শাখা)।

নিয়োগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ময়নুল আজাদ ও উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম নিজেরাই অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) পদে আবেদন করেছেন। তারা নিজেদের আবেদনপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ হিসেবে সুপারিশও করেছেন।

অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণে অসংগতি, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এনে নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আমিনুর রহমান। তিনি গত ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগে এই দাবি জানান।

অভিযোগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার উল্লেখ করেন, গত ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণির (গ্রেড-৯) পদে ন্যূনতম ১৩ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম সিন্ডিকেটে অনুমোদিত শর্ত অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট, যা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। এ ছাড়া, অভিজ্ঞতার শর্ত এক বছর বাড়িয়ে দেওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও তাদের চাকরির শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৩(২)(ফ)-এ এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগকারী আমিনুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য শওকাত আলী দ্রুত একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ দেওয়ার পরও আগামী ৯ মে নিয়োগ বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হলে আইনের আশ্রয় নেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী কোনো প্রার্থী থাকলেও সমস্যা নেই। তাঁর আবেদনপত্র যাচাইয়ের সময় তিনি উপস্থিত থাকেন না। আর ১২ বছরের পরিবর্তে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়ার ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। নির্ধারিত সময়েই নিয়োগ বোর্ড বসবে।

আরও পড়ুন

×