উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চির ‘ডাক্তারি’
মো. রাকিব মোল্লা
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:১৪ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কাগজে-কলমে এটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হলেও বাস্তবে এখানে চলছে অপচিকিৎসা। গত এক দশক ধরে কোনো চিকিৎসক নেই এখানে, নেই প্রয়োজনীয় জনবল। এই সুযোগে কেন্দ্রটিকে নিজের ইচ্ছেমতো চালাচ্ছেন মো. রাকিব মোল্লা নামে এক বাবুর্চি (কুক মশালচি)। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিচ্ছেন। এতে তিতাস পূর্ব পারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে ১৯৪৯ সালে তিতাস নদীর পূর্ব পারে হরিপুর জমিদার বাড়ির পাশে প্রায় ১৫ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। একসময় এটি এলাকার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা হলেও গত ১০ বছর ধরে এটি চিকিৎসক শূন্য। এই সুযোগে কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন রাকিব মোল্লা। তিনি পাশের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘কুক মশালচি’। অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলকভাবে তাঁকে এখানে প্রেষণে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করেন। সরকারি ওষুধ রোগীদের দিয়ে ইচ্ছেমতো টাকা নেন। আবার কখনও কখনও ওষুধের বদলে রোগীদের ‘পড়া পানি’ ও ‘তাবিজ’ দেন। বিনিময়ে নেন ‘হাদিয়া’।
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে মেডিকেল অফিসার, স্যাকমো, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহকারী থাকার কথা। কিন্তু এখানে সব পদ শূন্য।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ৮০ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম ব্যথার ওষুধ নিতে এলে রাকিব তাঁর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সামনেই বৃদ্ধাকে মারতে উদ্যত হন।
আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুবার ওষুধের জন্য এসেছেন। এ সময় রাকিব, এক মেয়ের সঙ্গে গল্প করছিলেন। ওষুধ চাইলে রাকিব তাঁকে মারতে আসেন। এক ঘণ্টা পর চারটা প্যারাসিটামল বড়ি (ট্যাবলেট) দিয়ে বিদায় করে দেন।
স্থানীয় গৃহবধূ শান্তা আক্তার জানান, তিনি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুলকানির মলম নিতে গেলে রাকিব তাঁর কাছ থেকে ৫০ টাকা দাবি করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির আহমেদ অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রোগীদের সরকারি ওষুধ না দিয়ে ঝাড়ফুঁক করেন রাকিব। মাঝে মধ্যে ওষুধ দিলেও টাকা দাবি করেন। এমনকি, ওষুধ দেওয়ার অজুহাতে এলাকার নারীদের কুপ্রস্তাব দেন। এ ছাড়া বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি ওষুধ তিনি গোপনে বিক্রি করে দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিব মোল্লা দাবি করেন, চাহিদামতো ওষুধ না পেয়ে লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। কিছু লোক তাঁকে এখান থেকে সরাতে চক্রান্ত করছে। বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমই আগে তাঁকে মারতে এসেছিলেন বলেও দাবি করেন।
