ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে মুগ-বাদামের ক্ষেত, শতকোটি টাকার ক্ষতি 

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে মুগ-বাদামের ক্ষেত, শতকোটি টাকার ক্ষতি 
×

সাত দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ক্ষেত। এর মধ্যেই ফসল রক্ষা চেষ্টায় কৃষক। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর গ্রাম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ২০:৪৬

পটুয়াখালীতে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে কৃষিক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মুগডাল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ, তিল, আলু ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ দুর্যোগে প্রায় ৯৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৬২৬ জন কৃষক।

কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসল ও আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ৫১ হাজার ৪৯২ হেক্টরের ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হলেও বাকি ৭৯ হাজার ২৮২ হেক্টর জমির ফসল মাঠে ছিল। গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন ২০৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে ৬১ হাজার ৯৩৭ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত এবং ৬ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধু পানি আর পানি। কোথাও মুগডালের গাছ পচে গেছে, কোথাও চিনাবাদাম তোলার আগেই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের ভাষ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ ও তিলের আবাদ। এসব ফসলের প্রায় ৭৫ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।

দক্ষিণ বদরপুর গ্রামের কিষানি ফরিদা বেগম বলেন, ‘মুই ১৫ কড়া জমিতে মুগডাইল দেই। এই বৃষ্টির পানিতে তলাইয়্যা সব নষ্ট হইয়্যা গ্যাছে। এক ছটাক ডাইলও ঘরে তুলতে পারি নাই। এহোন কি করমু বাজান, আল্লাহই ভরসা।’ একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘আমাগো তিন ভাগের দুই ভাগ ফসলই নষ্ট হইয়্যা গ্যাছে। বাদাম, মুগডাইল আর মরিচ কিছুই বাঁচে নাই। যা ছিল, সব ক্ষেতেই পচে গেছে।’

গাবুয়া গ্রামের কৃষক আউয়াল গাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি খাল দখল কইরা ঘর বানাইছে। নাই কালভার্ট, নাই স্লুইসগেট। পানি নামার রাস্তা নাই। আমরা গরিব মানুষ, ফসলই আমাদের একমাত্র ভরসা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতাঢ সেই ফসল নষ্ট হইছে।’ 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মুগডালে। এ ফসলে ৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া চিনাবাদামে ১০ কোটি ১ লাখ, বোরো ধানে ৫ কোটি ৮৯ লাখ, মিষ্টি আলুতে ৪ কোটি ৮ লাখ এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজিতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের কাছে প্রণোদনা ও সহায়তার সুপারিশ করা হবে, যাতে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
 

আরও পড়ুন

×