ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মশাবাহিত বিরল ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ রোগে শিক্ষিকা জুথীর মৃত্যু

মশাবাহিত বিরল ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ রোগে শিক্ষিকা জুথীর মৃত্যু
×

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ২১:২৩

বান্দরবান ভ্রমণ শেষে জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিন কোমায় থাকার পর মারা গেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) শিক্ষক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। মশাবাহিত বিরল ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। গতকাল শুক্রবার এমন আশঙ্কার কথা জানান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৩৬ বছর বয়সী জুথির। তিনি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

জুথির সহকর্মীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলেন জুথি। সেখান থেকে ফিরে জ্বরে ভোগেন তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয় পাতলা পায়খানা ও বমি। গত রোববার রাত ১২টার দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে রাত ২টার দিকে বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে প্রচণ্ড খিচুনির একপর্যায়ে হাত-পা বাঁকা হয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। একপর্যায়ে তার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানে শুরুতে কিছুটা সাড়া মিললেও, পরে আর সাড়া পাচ্ছিলেন না  চিকিৎসকরা। গত বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক কাওসারুল আলম বলেন, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মধ্যেই ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। এমআরআই পরীক্ষার রিপোর্টে ব্রেইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। দুজন জ্যেষ্ঠ মেডিসিন বিশেষজ্ঞও তার শারীরিক অবস্থা ও নানা লক্ষণ দেখে জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার ধারণা করেন। দ্রুত সময়ে শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়া এবং ব্রেইন ক্ষতি হওয়ার রিপোর্ট এই ভাইরাসের সংক্রমণ নির্দেশ করে। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বান্দরবান গিয়েছিলেন, এমনটি জানার পর ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বান্দরবান ভ্রমণকারীদের অনেক সময় ম্যালেরিয়া হয়। ওই শিক্ষিকার দুই সপ্তাহ আগে বান্দরবান যাওয়ার রেকর্ড আছে। এর সঙ্গে মৃত্যুর আগে চিকিৎসকরা তার মাঝে যেসব লক্ষণ পেয়েছেন তার সঙ্গে মশাবাহিত বিরল জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাসের অনেকটা মিল রয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা তিনি জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘ড. জুথির আকষ্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, সহপাঠীসহ পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহে বৃহস্পতিবার রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার স্বামী অধ্যাপক শাহরিয়ার হাসেম অর্ণব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন জুথি।’

আরও পড়ুন

×