উদ্বোধনের আগেই দেবে গেছে সংযোগ সড়ক
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী সড়কে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক দেবে গেছে সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৭:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই দেবে গেছে সাড়ে চার কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক। এভাবে সংযোগ সড়ক দেবে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজে গাফিলতি নয়, টানা তিন দিন বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী সড়কে ৭০ মিটার সেতু নির্মাণকাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে ছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সব কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়েছিল। নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দিয়েছে এলজিইডি। সময়মতো অর্থ না পাওয়া, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়া, এ ছাড়া রাজনৈতিক নানা কারণে সেতুর নির্মাণকাজ করতে বাধার মুখে পেড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজও শেষ। ব্লকের কাজ চলমান। এর মধ্যে দুই দিন আগে হঠাৎ করে সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক অনেকটাই দেবে যায়। প্রশ্ন ওঠে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দায়িত্বরত এলজিইডি কর্মকর্তার তদারকি নিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে আছেন তারা। ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণে এক বছরের সেতু পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। সেতু হলেও সংযোগ সড়কে মাটি মজবুত করা হয়নি। আবার তার ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। যার কারণেই ফাটল ধরে দেবে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর জানান, বৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে ভালোমতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে পেটানো হলে দেবে যেত না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নূর নবী বলেন, সেতুর কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। তিন দিন অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ব্লকে কাজ শেষ করতে পারেননি। ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়। নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে। এর কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুতই মেরামত করে দেওয়া হবে।
দায়িত্বহীনতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। তাঁর ভাষ্য, সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতু চালু না হলেও কিছু যানবাহন চলাচল করায় একটি অংশের মাটি দেবে গেছে। সেতুর সংযোগ সড়কের কাজের টাকা এখনও দেওয়া হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামত করে দেবে। শুধু তাই নয়, হস্তান্তরের এক বছরের মধ্যে সেতু ও সংযোগ সড়কের যে কোনো সমস্যা হলে ওই প্রতিষ্ঠান মেরামত করে দিতে বাধ্য থাকবে।
- বিষয় :
- সড়ক
