ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ

ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ 

ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ 
×

বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি : সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১৬:৫৭

বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।  শনিবার সকালে এ নিয়ে ইপিজেড গেটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এসময় সড়কের দুদিকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেপজা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে প্রায় ২ ঘন্টা পরে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, তারা দূর-দূরান্ত থেকে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঈশরদী ইপিজেডে কাজে আসেন। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন বাস কোম্পানি শ্রমিকদের বাসভাড়া প্রতি মাসে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

জানা যায়, পাবনা, লালপুর, বাঘা, বনগ্রাম, ভেড়ামারা, চারঘাটসহ দূর-দূরান্ত থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন বাস ও ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন যানবাহনে মাসিক ভাড়া চুক্তিতে ঈশ্বরদী ইপিজেডে যাতায়াত করেন।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের একটি গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিক আফরোজা খাতুন বলেন, আমরা প্রতিদিন পাবনা থেকে বাসে এখানে কাজে আসি। আমাদের বেতন বাড়েনি অথচ প্রতি মাসের বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। 

আরেক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রেজাউল আলম সোহান বলেন, ভেড়ামারা থেকে ইপিজেডে কাজে আসি। যা বেতন পাই তার একটি বড় অংশ আমাদের পরিবহনে ব্যয় হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাকি টাকায় সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর মাসে আরও ৫০০ টাকা বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে, আমরা কীভাবে চলব। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। 

খবর পেয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেপজা কর্তৃপক্ষের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের কিছু দাবি ও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলব। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর শ্রমিকরা প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। 

ঈশ্বরদী ইপিজেডের অভ্যন্তরে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সকালে শ্রমিকদের আন্দোলনে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বেপজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনও কথা বলেছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

আরও পড়ুন

×