কাপাসিয়ায় ৫ খুন
হত্যার আগে খাওয়ানো হয় চেতনানাশক, ধারণা পুলিশের
এই বাড়িতে হত্যার ঘটনা ঘটে। খবরটি জানাজানির পর বাড়িটির সামনে স্থানীয়দের ভিড় (ছবি-আব্দুল কাইয়ুম)
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১৯:১৭ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ১৯:৫১
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক গৃহবুধূ, তার তিন সন্তান ও ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মো. ফোরকান মিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে পাঁচজনকেই চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. বাসেত বলেন, সুরতহাল করতে গিয়ে ভিকটিম দেখে মনে হচ্ছে, রাতের খাবারের সঙ্গে বিষ অথবা চেতনাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। পাঁচজনের মধ্যে শুধু শারমিন সজাগ ছিল। ছোট মেয়ে ফারিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়েছে, সে ছাড়া বাকি সবার গলায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপানো হয়। বড় দুই মেয়েকে জবাই করে হত্যা করা হলেও দুই বছরের ফারিয়াকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এর আগে, শনিবার সকালে কাপাসিয়া সদরের রাউৎকোনা পূর্বপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে খুনের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের মেয়ে মীম (১৫) মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং ফোরকান মিয়ার শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। প্রথমে এটি দুর্বৃত্তদের কাজ বলে ধারণা করা হলেও শারমিনের চাচা দাবি করেন, পলাতক মো. ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ফোরকান গোপালগঞ্জ জেলা সদরের মেরী গোপিনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।
শারমিনের চাচা উজ্জ্বল মোল্লা জানান, গত শুক্রবার রাত একটার দিকে ফোরকান রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বসবাসরত তার ছোট ভাই মিশকাতকে ফোনে বরেন, ‘আমি বাসায় সবগুলাকে মেরে ফেলেছি। তোরা ওদের লাশ নিতে আয়। আমাকে আর খুঁজে পাবি না।’
প্রতিবেশি রত্না আক্তার বলেন, ‘স্ত্রীর ওপর ক্ষোভ থাকলে তাকে মেরে ফেলতো, কিন্তু নিষ্পাপ মেয়েদের কেন হত্যা করল তা বুঝতে পারছি না।’
এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুরের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযুক্ত ফোরকানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- শিশু হত্যা
- খুন
