ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশু রেশমির জ্ঞান ফেরেনি তিন দিনেও, করা যাচ্ছে না অস্ত্রোপচার

শিশু রেশমির জ্ঞান ফেরেনি তিন দিনেও, করা যাচ্ছে না অস্ত্রোপচার
×

রেশমি আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৪:৩৮

মায়ের জন্য পান আনতে গিয়েছিল শিশু রেশমি আক্তার। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি ১১ বছরের রেশমির মস্তিষ্কে আটকে আছে। চোখ দিয়ে গুলিটি মাথার ভেতরে প্রবেশ করায়, করা যাচ্ছে না অস্ত্রোপচার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা শিশুটির জ্ঞান ফেরেনি তিন দিন পরও। 

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে দোকান থেকে পান আনতে গিয়েছিল রেশমি। সেই সময় দুই পক্ষের মধ্যে চলছিল গোলাগুলি। একটি গুলি রেশমির চোখে লাগায় সে রাস্তায় পড়ে যায়। গোলাগুলি বন্ধ হলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তার মাথা দিয়ে প্রচণ্ড রক্ত ঝরছিল। এই সংঘর্ষের সময় গুলিতে হাসান রাজু নামে এক যুবক নিহত হন।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, রেশমি কোনো সাড়া দিচ্ছে না। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রেশমি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ সবজি বিক্রেতা। আহাজারি করতে করতে রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘রেশমির মুখে বাবা ডাক শুনছি না তিন দিন ধরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা ভালো না। আমার নিরপরাধ মেয়েটির কেন এমন করুণ পরিণতি হলো? সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তো আমার বা আমার মেয়ের কোনো শত্রুতা ছিল না। কার কাছে চাইব এর বিচার?’ 

শিশুটির ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ডাক্তাররা জানিয়েছেন, গুলি তার মাথার খুব খারাপ জায়গায় আছে। তাই বের করা সম্ভব হচ্ছে না।’ 

জ্ঞান না ফেরায় নিউরোসার্জারি, আইসিইউ, চক্ষু, অ্যানেসথেসিওলজিসহ কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গতকাল মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার করলে জীবন হুমকিতে পড়তে পারে।’ 

চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের বিপজ্জনক অংশ ছেদ করে মাঝ বরাবর আটকে আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করতে চাইলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই মেডিকেল বোর্ড অস্ত্রোপচার না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

হাসপাতালে রেশমিকে দেখতে যাওয়া চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে ইঙ্গিত করে। রেশমির পরিবারের পাশে আছে প্রশাসন।’ বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনার যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসে দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাসান রাজু নিহত হন। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা। রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার সময় ওই সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল রেশমি আক্তার। গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নগরীর বাকলিয়া ময়দার মিল এলাকায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে ফাহিম নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। একের পর এক এমন গোলাগুলির ঘটনায় নগরীর বাসিন্দাদের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। 

আরও পড়ুন

×