ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

চার দিন পরও জ্ঞান ফেরেনি শিশু রেশমির

চার দিন পরও জ্ঞান ফেরেনি শিশু রেশমির
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৪:১৪

চার দিন পার হলেও ১১ বছরের শিশু রেশমির জ্ঞান ফেরেনি। লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি বাঁ চোখ দিয়ে মাথার ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মস্তিষ্ক। গুলি যে স্থানে আটকে আছে সেটিকে বিপজ্জনক বলছেন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার করতে গেলে হুমকিতে পড়তে পারে শিশুর জীবন। চিকিৎসকরাও ছেড়ে দিয়েছেন তার বাঁচার আশা। তারা বলছেন, ‘এখন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’ 

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মায়ের জন্য পান আনতে যায় রেশমি আক্তার। সে সময় সন্ত্রাসীদের দু-পক্ষের মধ্যে চলছিল গোলাগুলি। এক পর্যায়ে তাদের ছোড়া গুলি লাগে রেশমির চোখে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাসান রাজু (২৪) নামে একজন।

দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। বোনের এমন করুণ পরিণতিতে চার দিন ধরে বড় ভাই ফয়সাল আহমেদের চোখে ঘুম নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমার আদরের বোনটি নিথর। বেশ কয়েকবার রেশমি রেশমি বলে ডাকলেও সাড়া দেয়নি। কিছুক্ষণ পরপর মা ফোন করে বোনের অবস্থা জানতে চাইছে। মাকে কীভাবে বলি– রেশমি একেবারে ভালো নেই!’ 

চার দিন আগে রিয়াজ আহমেদকে বাবা বলে ডেকেছিল রেশমি। এর পর থেকে তার মুখ থেকে আর বাবা ডাক শুনতে পারেননি রিয়াজ। আর কবে রেশমি বাবা বলে ডাকবে, তাও অনিশ্চিত। ‘আমার রেশমির এমন পরিণতির জন্য বিচার চাইব কার কাছে’– এ কথা বলে আহাজারি করতে থাকেন রিয়াজ। 

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। জ্ঞান এখনও ফেরেনি। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও আশানুরূপ উন্নতি নেই। আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, গুলির কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের সাড়া দেওয়ার মাত্রা শূন্যে নেমেছে। নেই রক্তচাপও। এখন সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র ভরসা।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।  

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সন্ত্রাসীদের দু-গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় শিশু রেশমির সংকটাপন্ন অবস্থা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনায় আমরাও উদ্বিগ্ন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×