রাস্তা খুঁড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, মাঠের ধান পরিবহনে দুর্ভোগ
পাকাকরণের জন্য কয়েক মাস ধরে খুঁড়ে রাখা হয়েছে এই সড়কটি। ফলে চলাচল করতে পারছে না কোনো যানবাহন। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ডাউটি গ্রামে। ছবি: সমকাল
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:২৭
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ডাউটি গ্রামের প্রধান রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য কয়েক মাস ধরে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় রাস্তাটি কত দিনের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হবে, তাও জানেন না গ্রামবাসী। বিকল্প রাস্তা না থাকায় গ্রামীণ সড়কের দুধারে মাঠের শত শত বিঘা জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপদে পড়েছেন কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক মাস হলো তাদের গ্রামে যানবাহন চলাচলের উপযোগী একমাত্র রাস্তাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এখন তাদের মাঠ ভরা পাকা ধান। প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক খুঁড়ে রাখাতে কেউই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। কিন্তু এখনই ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষেতেই বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার হচ্ছে তাদের।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এক কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৯১২ টাকা ব্যয়ে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের বড় ডাউটি গ্রামের এক হাজার ৯৫০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে। কাজটি করছে ঝিনাইদহ শৈলকুপার মেসার্স এম এম ফার্নিচার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কাজটি আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা। কয়েক মাস আগে গ্রামীণ রাস্তাটি খোঁড়া হলেও নির্মাণকাজ আর এগোয়নি।
ডাউটি গ্রামের কৃষকরা জানান, গ্রামের পুরো রাস্তা খুঁড়ে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছে। এখন ওই রাস্তায় কোনো গাড়িই চলাচল করতে পারছে না। তারা জানান, রাস্তার দুধারে বিস্তীর্ণ জমির সব ধান পেকে গেছে। বেহাল রাস্তার কারণে তারা মাঠের ধান কাটতে পারছেন না।
জাহিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, গ্রামের একমাত্র রাস্তাটির পাশেই তাঁর ২০ বিঘা ধান রয়েছে। প্রায় সব ধানই পেকে গেছে। প্রতিবছর পাওয়ার টিলারে করে ধান বাড়িতে আনতেন। কিন্তু এবারে রাস্তা খোঁড়ার কারণে পরিবহন চলাচলে সমস্যায় ক্ষেতের ধান কাটতে পারছেন না। তিনি বলেন, আবহাওয়াও খারাপ চলছে। এমন অবস্থায় ধান বাড়ি আনতে হলে মাথায় করে টানতে হবে। এতে খরচও বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।
মনিরুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, বেহাল রাস্তার কারণে পরিবহন না চলাতে কৃষি শ্রমিক দিয়ে মাথায় করে ধান আনতে হবে। এতে প্রতি বিঘায় সাত থেকে আট হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তারপরও বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানক্ষেতে ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
একই গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণ হয় জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু সেই রাস্তাই এখন আমাদের অকল্যাণ বয়ে আনছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুকনো মৌসুমে কাজ না করে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রেখে গেছে। এখন আমরা কী করে মাঠের ধান ঘরে তুলব, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে কাজ শুরু করলেও বিটুমিন সংকট জানিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। যে কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর অফিস থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- ঝিনাইদহ
