ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ী মহাসড়ক

৯ বছরেও শেষ হয়নি ফ্লাইওভার, ভোগান্তি

৯ বছরেও শেষ হয়নি ফ্লাইওভার, ভোগান্তি
×

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার। ছবি: সমকাল

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:৩৫

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধা অংশ এখন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী পৌর শহর এলাকায় ৯ বছরেও ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। ঈদসহ উৎসবের সময়ে এই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় ২০১৬ সালে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্পের খরচ ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা ধরা হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকায়। 

২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এখন আগামী জুন মাস পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতাকেই এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এ সমস্যা সমাধান করে দ্রুত কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ জানায়, চার লেনের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহনগুলো যখন গোবিন্দগঞ্জ বা পলাশবাড়ী পৌর এলাকায় প্রবেশ করে, তখন ফ্লাইওভারের কাজের কারণে রাস্তা সরু হয়ে যায়। এ ছাড়া    যত্রতত্র বাস,  ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা এবং চালকদের উল্টো পথে চলাচলের প্রবণতাও যানজটের কারণ। 

সরেজমিন ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এক মিনিট গাড়ি আটকে থাকলেই প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা যানজট তৈরি হয়। এ সময় যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজটে আটকে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। গত ঈদুল ফিতরেও এই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কাজ শেষ না হলে এবারের ঈদেও সাধারণ মানুষের এই বিড়ম্বনা আরও দীর্ঘায়িত হবে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক মো. অলিউর রহমান জানান, জমি বুঝে পেতে দেরি হওয়ায় কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। তবে আগামী দু-এক মাসের মধ্যে পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জের ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ফ্লাইওভারের ধীরগতির কারণেই মূলত যানজট হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইওয়ে পুলিশ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। একই কথা বলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. মোস্তফা আল মামুন। তিনি বলেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানেন। কাজ শেষ হলেই এ সমস্যা আর থাকবে না।

আরও পড়ুন

×