ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অন্ধকারে হাসপাতাল ভরসা মোমবাতি

অন্ধকারে হাসপাতাল ভরসা মোমবাতি
×

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:৩৭

রাত নামলেই রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন অন্ধকারে ঢেকে যায়। করিডোরজুড়ে নেই আলো, বন্ধ ফ্যান, নেই জেনারেটরের কোনো শব্দ। রোগীদের ভরসা তখন শুধু মোমবাতির ক্ষীণ আলো। অথচ ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল একসময় প্রসূতি সেবায় দেশসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা।

শনিবার ও গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের শয্যার পাশে রাখা থাকে মোমবাতি ও দেশলাই। হাসপাতালের দেওয়া চার্জার লাইট বড়জোর আধাঘণ্টা চলে। এরপর নেমে আসে গভীর অন্ধকার। ফ্যান বন্ধ থাকায় গরমে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়– এটি সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় গভীর সংকটের প্রতিফলন। যেখানে আলো থাকার কথা, সেখানে অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়েই রাত পার করছেন রোগী ও তাদের স্বজন। 

গাইনি ওয়ার্ডের রোগী আফরোজা বেগম বলেন, ‘রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়। অন্ধকার আর গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে।’ শিশু ওয়ার্ডে থাকা রুনা খাতুন জানান, অন্ধকারে অসুস্থ শিশুকে ওষুধ খাওয়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে অন্ধকারে নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেন জানান, গত দুদিনে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি সাইকেল চুরি হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ কেভির একটি জেনারেটর স্থাপন করা হলেও সেটি কখনও চালু হয়নি, কারণ জ্বালানির বরাদ্দ ছিল না। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের সঙ্গে ৬০ কেভির আরেকটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু একই সমস্যায় সেটিও অচল। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো দুই কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেমও বর্তমানে অকেজো।

নার্সিং সুপারভাইজার মঞ্জুরা খানম বলেন, ‘জেনারেটর ও সোলার সিস্টেম চালু না থাকায় চার্জার লাইট দিয়েই কোনোভাবে সেবা দিতে হচ্ছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজা জানান, জেনারেটর চালাতে ঘণ্টায় ১৪-১৫ লিটার ডিজেল লাগে, কিন্তু কোনো বরাদ্দ নেই। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আসিফ রেহমান জানান, জ্বালানির অভাবে জেনারেটর চালু করা যাচ্ছে না। তবে সোলার সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুজন চারঘাটের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘যন্ত্র বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ।’

আরও পড়ুন

×