ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরে ৪ বছরে ৩২ হাজার টন বর্জ্য পুনর্ব্যবস্থাপনা করেছে ইউনিলিভার

চট্টগ্রাম মহানগরে ৪ বছরে ৩২ হাজার টন বর্জ্য পুনর্ব্যবস্থাপনা করেছে ইউনিলিভার
×

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব‍্যুরো

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৩:৫৯

চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১ টি ওয়ার্ড থেকে ৪ বছরে ৩২ হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে ইউনিলিভার। প্রায় ২৫,০০০ পরিবার এবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্য-ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) এর সহায়তায় তারা ৩,০০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে (ভাঙারিওয়ালাকে) প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রায় ২,০০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সাল থেকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রুপ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সুবিধাও চালু করা হয়েছে।

অক্ষমতা বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১,৮২৭ জন অংশগ্রহণকারীকে আর্থিক সুরক্ষার আওতায়ও আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান। 

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন আরও শক্তিশালী করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব চুক্তি আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে ইউনিলিভার, ইপসা ও সিটি করপোরেশন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (এস), বিএন ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন, বেসরকারি খাত এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। এ ধরনের উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ার আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। জনসচেতনতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানো গেলে এই উদ‍্যোগ একদিন পুরো দেশের জন্য মডেল হবে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস এবং সার্কুলারিটি ত্বরান্বিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইউনিলিভার গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা’র সঙ্গে আমাদের চলমান অংশীদারিত্ব এর কার্যকারিতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—যার মাধ্যমে বর্জ্যকর্মীদের সহায়তা, সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আরও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছে, যা তাদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির সুযোগও বাড়াচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

তাদের এমন স্বীকৃতি অন‍্যদের উদ্বুদ্ধ করবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।

তিনি বলেন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ ১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটির ৩৯ দশমিক ২৫ শতাংশ মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের। দেশের প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টি পরিবার প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে ইউনিলিভারের অন্তত একটি ব্র্যান্ড ব্যবহার করে। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তাই বর্জ্য সংগ্রহের এই কাজে যুক্ত হয়েছে ইউনিলিভার।

আরও পড়ুন

×