চাঁদাবাজির অভিযোগে দলিল লেখকদের কলমবিরতি
গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মঙ্গলবারও উত্তেজনা বিরাজ করেছে। অফিস চত্বরে অবস্থান নিয়ে ফের হুমকি ও ভাঙচুরের আশঙ্কা সৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠার পর চাঁদাবাজির প্রতিবাদে কলমবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দলিল লেখকরা।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক, জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল, আজিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মিথেনসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বহিরাগত চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মব সন্ত্রাসীরা অফিসে এসে দলিল লেখকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘শহরের কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি প্রতি দলিলে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া হবে।’
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, গত ৯ মে সন্ধ্যায় গাইবান্ধা পুরাতন জেলখানার মোড়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিকের পথরোধ করে প্রতি দলিল কিংবা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে দেখে নেওয়া এবং দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করলে পরদিন ১০ মে দুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল ফটকের সামনে অভিযুক্তরা মানববন্ধনের নামে জড়ো হয়ে তারা দলিল লেখক ও অভিযোগকারীকে লক্ষ্য করে গালাগাল করে এবং অফিস এলাকায় মব সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে লাথি মেরে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শরীফ আল রাজিব বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- চাঁদাবাজি
