স্কুলে পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত, জ্ঞান হারাল শিক্ষার্থী
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় শিক্ষকের বোতলের আঘাতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। আহত মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। সে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মুগ্ধর বাবা-মা ঢাকায় বসবাস করেন। মুগ্ধ নানাবাড়ি মোহনগঞ্জের বরান্তর গ্রামে থেকে লেখাপড়া করে।
জানা গেছে, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের ভেতর ফ্রিজে থাকা বরফে জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে একাধিকবার মুগ্ধর মাথায় আঘাত করেন সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ। অন্য শিক্ষার্থীদের সামান্য দুষ্টুমির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুগ্ধকে মারধর করেন তিনি। আঘাতের পরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশুটি। পরে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন তাঁর মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরায়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর শিক্ষক তাঁকে বাড়িতে কিছু না বলতে হুমকি দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং বমি করে। তাঁর কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাত কাটান। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকারের ভাষ্য, মাথায় আঘাত করায় তাঁর এই অবস্থা হয়েছে। রাতে বমি করেছে, কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছে। এসব লক্ষণ ভালো নয়। সিটি স্ক্যান করে অবস্থা বুঝতে হবে। রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত মুগ্ধর খালা মুক্তা খান বলেন, পোলাপানের দুষ্টুমির কারণে বরফে জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় আঘাত করেন শিক্ষক কাউসার। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারায় মুগ্ধ।
বক্তব্য জানতে শিক্ষক কাউসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, ‘ছাত্রটাকে কাউসার সাব মারপিট করেছে। অস্বীকার করার কিছু নেই। শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
- বিষয় :
- স্কুল
