ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কুড়িয়ে পাওয়া সেই স্বপ্নার স্বপ্নপূরণ

কুড়িয়ে পাওয়া সেই স্বপ্নার স্বপ্নপূরণ
×

পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০০:৩৭ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০০:৩৯

একযুগ আগে সিলেট রেলস্টেশন বসে কাঁদছিল মেয়েটি। পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়স হবে তখন। নিজের নামটুকু ছাড়া ঠিকানা বলতে পারেনি। স্টেশনে ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মের যাত্রীরা একে এক সবাই গন্তব্যে চলে গেলেও ছোট্র শিশু স্বপনা পড়ে রইল স্টেশনে। তার চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্ক। সেই ছোট্ট শিশুটি স্বপ্না আক্তারের একসময় ঠাঁই হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে। 

বাবা-মার খোঁজ করে মেলেনি সন্ধান। ১২ বছর কাটে সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সেই কেন্দ্রে বুধবার তার বিয়ে হল। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ হয়ে উঠল তার নতুন জীবনের সূচনার সাক্ষী। 

বিয়ের আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা … সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। পরিবারহীন এক মেয়েকে পরিবার দিতে পেরে খুশি সবাই। বিয়ের অনুষ্ঠানে ছুটে যান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।  

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, স্বপ্নার বাড়ি সিলেটের কোনো এক উপজেলায়। তাকে উদ্ধার করার পর আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে তার বাবা-মার খোঁজ মেলেনি। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষাও পাস করে স্বপ্না। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পাত্র খোঁজা হয়। পাত্র সিলেটের সন্তান ও পেশায় একজন ইলেকট্রিকের ঠিকাদার। স্বপ্নার বিয়েতে ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র।

বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসএম মোক্তার হোসেন সমকালকে জানিয়েছেন, তাকে উদ্ধারের সময় স্বপ্না ছয় বছরের কাছাকাছি ছিল। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এমন বিয়ের আয়োজনটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ সময় বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×