ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নানা হাত ঘুরে সরকারি চাল ঢুকে পড়ে ব্র্যান্ডের বস্তায়

নানা হাত ঘুরে সরকারি চাল ঢুকে পড়ে ব্র্যান্ডের বস্তায়
×

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৫২ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদুর তৈরির একটি পরিত্যক্ত কারখানার গুদাম থেকে ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭ (র‍্যাব)। গতকাল বুধবার বিকেলে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জব্দ করা চালের পরিমাণ ৫৭৮ টন। এর মধ্যে প্রায় ৫৯ টন চাল ছিল সরকারি বস্তায়। অন্য চালগুলো নানা ব্র্যান্ডের মোড়কে রাখা ছিল।

এ সময় গুদামের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আবদুল আজিজকে আটক করা হয়। তিনি পাশের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের বাসিন্দা। অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-৭ ও খাদ্য কর্মকর্তারা জানিযেছেন, নানা হাত ঘুরে সরকারি চাল চলে আসত এখানে। তারপর শ্রমিকরা এসব চাল নামিদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় ঢুকিয়ে বাইরে চালান করত।
র‍্যাবের হিসাবে, ওই গুদামে সরকারি চাল পাওয়া গেছে মোট ৫৮ টন ৭৫০ কেজি। এসব বস্তার ওপর লেখা রয়েছে ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফুড, মিনিস্ট্রি অব ফুড। এ ছাড়া নূরজাহান ব্র্যান্ডের বস্তায় ৬৫ টন, চিংড়ি ব্র্যান্ডের ৭০ টন ও অন্যান্য খোলা বস্তায় ৩৮৫ টন চাল পাওয়া যায়। 

র‍্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম বলেন, জব্দ ৫৭৮ টন চালের মধ্যে সরকারি বস্তায় প্রায় ৫৯ টন চাল পাওয়া যায়। এর আগেও অনেক চাল বিক্রি হয়েছে বলে প্রশাসনের ধারণা। অভিযানে পাওয়া একটি চালান বইতে সাতটি চালানের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে তিনটি চালানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ফারুক ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ৭০২ বস্তা, বন্দরটিলার রিয়াজ স্টোরের বিপরীতে ১০০ বস্তা, কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালীর ইসমাইল সওদাগরের অনুকূলে ৫০০ বস্তা চাল বিক্রির উল্লেখ আছে। 
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। এসব চাল কোন কোন পাইকারি আড়ত বা দোকানে যেত, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি ডিলারদের নামে বরাদ্দ চাল নানা গুদাম থেকে এখানে নিয়ে আসা হতো। অথচ আটক ব্যক্তির কাছে সরকারি চাল বিক্রির লাইসেন্স নেই।

আরও পড়ুন

×