ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের সচল রৌমারী-চিলমারী রুটের ফেরি

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের সচল রৌমারী-চিলমারী রুটের ফেরি
×

বৃহস্পতিবার দুপুরে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরি চিলমারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ছবি-সমকাল

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৩:৫০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১৪:৩২

কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী নৌ রুটে দীর্ঘ ৪ মাস ২৪ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি এবং নৌপথে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষে স্বস্তি ফিরেছে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের মাঝে।

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. নুরন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নৌ বন্দর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরি চিলমারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিও এ রুটে যুক্ত করা হয়। ফেরি চালুর ফলে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে আবারও গতি ফিরেছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ আন্দোলন ও জনদাবির মুখে রৌমারী-চিলমারী নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। এরপর থেকে কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে ওঠে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকট, নদীতে চর জেগে ওঠা এবং পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন সময় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম চালানোর ফলে ফেরি চলাচলের পথ অনেক সহজ হয়েছে। এতে ফেরি চলাচলের দূরত্বও প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার কমে এসেছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

ফেরি চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা। ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে। সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফেরি চালু হওয়ায় এখন অনেকটাই স্বস্তি ফিরবে।

ট্রাকচালক শাহিন মিয়া বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ঘুরপথে যেতে হতো। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বেড়ে যেত। এখন ফেরি চালু হওয়ায় দ্রুত ও সহজে পারাপার করা যাবে।

স্থানীয় শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, রৌমারী-চিলমারী ফেরি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও সচল হলো। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। আমরা চাই, ফেরি চলাচল যেন স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকে।’

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ বলেন, নৌপথে পানি বৃদ্ধি ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপদ পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। বর্তমানে ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দিয়ে নিয়মিত পারাপার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়লে ফেরি চলাচল আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন

×