কাপাসিয়ায় ৫ খুন
অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ উদ্ধারের খবর গুজব: ওসি
ছবি: সংগৃহীত
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২০:০৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ২০:০৩
গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেছেন, একই পরিবারের পাঁচ জনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধারের খবরটি গুজব। তবে সে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আজ গাজীপুরের পুলিশ সুপার যে ব্রিফিং করেছেন তার বাইরে যা কিছু প্রচার করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় এক ব্রিফিংয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তাঁর পরিবার ও মামলার বাদী। মরদেহ উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।
এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।
তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী নিহত শারমিনের বাবা এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তিন মেয়ে মীম খানম (১৩), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মোল্লা (২২)।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মোল্লার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পর ফোরকান তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।
মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, কাপাসিয়ার আলোচিত ৫ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- খুন
- লাশ উদ্ধার
