নেত্রকোনায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ
বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ছবি: সমকাল।
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২২:৩০
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গোড়াডোবা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকার কামাউড়া স্লুইসগেট-সংলগ্ন অংশে বাঁধটি ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। পরে প্রবল স্রোতের চাপে মুহূর্তের মধ্যে ভাঙনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ শুরু হয়।
অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হাওরের কিছু অংশে এখনো ধান কাটা বাকি রয়েছে। পানি আরও বাড়লে অবশিষ্ট ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেশবপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হেকিম বলেন, সারাবছরের ভরসা এই বোরো ফসল। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গোড়াডোবা হাওরের শতভাগ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। এছাড়া নুন হাওরেরও প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এস এম মিকাইল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবছরই হাওরের বাঁধ সংস্কারে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়। সময়মতো টেকসইভাবে কাজ না করায় সামান্য চাপেই বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন বাঁধ ভাঙায় তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কারণ হাওরের শতভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গোড়াডোবা হাওরের ধান কাটা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তাই বর্তমানে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করলেও কৃষকদের বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা কম। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য হাওরের বাঁধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবসময় আন্তরিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
