ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পবিপ্রবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে হামলা, নেপথ্যে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব

পবিপ্রবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে হামলা, নেপথ্যে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব
×

ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম (বাঁ দিকে) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান ( ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত

পবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১২:২১ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ১২:২২

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিসির পক্ষের একটি অংশ এই হামলায় জড়িত। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন শরীফ প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। গত ডিসেম্বরের রিজেন্ট বোর্ড সভা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনের দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্তি আরও গভীর হয়।

প্রো-ভিসি পক্ষের অভিযোগ, বোর্ডে অনুমোদিত না হওয়া সিদ্ধান্ত ভিসি এককভাবে অফিস আদেশে বাস্তবায়ন করেছেন এবং ২৪ জনের মধ্যে ২১ জনের পদোন্নতি স্থগিত রেখে মাত্র তিনজনকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে কমিটি গঠন করে পুনরায় মাত্র তিনজনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়-যা নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়। এর পাশাপাশি পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। বিজয় দিবস উদযাপনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বিভক্তি প্রকাশ পায়।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বিভিন্ন প্রশাসনিক ঘটনার পর, যার মধ্যে রেজিস্ট্রার হেনস্তার অভিযোগ, ডিন নিয়োগ ও অপসারণ ঘিরে বিরোধ এবং একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনার পর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান হামলা ও বিভিন্ন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে এবং তাকে জড়িয়ে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

অন্যদিকে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় একটি পক্ষ আন্দোলন করছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 
 

আরও পড়ুন

×