ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজশাহী

দুই যমজ নবজাতকের শরীরে অকার্যকর সব অ্যান্টিবায়োটিক, শঙ্কায় পরিবার

দুই যমজ নবজাতকের শরীরে অকার্যকর সব অ্যান্টিবায়োটিক, শঙ্কায় পরিবার
×

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জন্ম নেওয়া দুই যমজ শিশু। ছবি: সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১৬:৩২

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জন্ম নেওয়া দুই যমজ শিশুর শরীরে জন্মের পরই প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট অবস্থায় জন্ম নিয়েছে নবজাতক দুই ভাই। বর্তমানে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত ৫ মে নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মণবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মানিক উদ্দিনের স্ত্রী কোহিনুর সুলতানা রামেক হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরিবারে আনন্দের আবহ তৈরি হলেও কিছু সময় পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশু দুটির অক্সিজেন সঞ্চালন স্বাভাবিক নয়। পরে তাদের হাসপাতালের ২৬ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শিশু দুটির এখনো নাম রাখা হয়নি। বাবার নাম অনুসারে হাসপাতালের নবজাতক আইসিইউতে তাদের ‘মানিক-১’ ও ‘মানিক-২’ নামে শনাক্ত করা হচ্ছে।

শিশুদের বাবা মানিক উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকার একদিন পর থেকেই শিশু দুটো অস্বাভাবিক কান্নাকাটি শুরু করে। পরে তাদের নবজাতক আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকেই অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গত সোমবার শিশু দুটির ‘কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট’সহ কয়েকটি পরীক্ষা করানো হয়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পান চিকিৎসকেরা। রিপোর্টে দেখা যায়, শিশু দুটির শরীরে অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই কার্যকারিতা হারিয়েছে। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক মোহতারামা মোস্তারী বলেন, ‘মানিক-১’ তুলনামূলক ভালো থাকলেও ‘মানিক-২’-এর অবস্থা বেশি জটিল। তার শরীরে অক্সিজেনের প্রয়োজনও বেশি। 

তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত ‘কলিস্টিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট পাওয়ার আগেই শিশু দুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কলিস্টিন প্রয়োগ শুরু করেছিলেন। পরে পরীক্ষার ফলাফলেও তাদের আশঙ্কার সত্যতা পাওয়া যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণ সম্পর্কে রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান বেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ, সঠিক ডোজ অনুসরণ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো ধীরে ধীরে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, আগে যেসব রোগ স্বল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকেই ভালো হয়ে যেত, এখন সেখানে উচ্চমাত্রার ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। বর্তমানে কোন ওষুধ কার্যকর আছে তা জানতে ‘কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট’ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

×