ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস পশুদের

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস পশুদের
×

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেও গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন; রেহাই পাচ্ছে না পশুপাখিরাও। তীব্র গরমে ছায়া আর পানিতেই স্বস্তি খুঁজছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় খাঁচাবন্দি বাঘগুলো। গতকাল শুক্রবার তোলা সমকাল

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জ্যৈষ্ঠ মাসের কাঠফাটা রোদের মধ্যে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা উঠছে ৩৪-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ ডিগ্রি বেশি। বাস্তবে গরম অনুভূত হচ্ছে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এতে হাঁসফাঁস জনজীবন। অস্বাভাবিক গরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে।

এদিকে তীব্র গরম সীমাহীন কষ্ট বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বন্দি পশুদের। অসহ্য গরমে ভালো নেই সাড়ে ছয় শতাধিক পশু। গরমে এদের মাঝে বাড়ছে অস্বস্তি, খাবার গ্রহণে দেখা দিচ্ছে অনীহা। অনেকের দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতাও। স্বাভাবিক আচরণগত পরিবর্তনও দেখা দিচ্ছে কারও কারও ক্ষেত্রে। এ থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পরিত্রাণ পেতে এখন বেশির ভাগ সময় পানিতেই কাটছে বেশির ভাগ পশুর।

স্বাভাবিক সময়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের পর প্রধান ফটকের মাঝ বরাবর বাঘের হুংকার শুনতে পেতেন দর্শনার্থীরা। খাঁচার চারপাশে রাজার মতো পায়চারি করতে করতে হুংকার দিত এরা। তবে তীব্র গরমে বদলেছে তাদের জীবন। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে খাঁচার ভেতরের পানির চৌবাচ্চাতেই এখন বেশির ভাগ সময় মাথাসহ পুরো শরীর ভিজিয়ে সময় কাটছে এদের। স্বস্তি পেতে কিছুক্ষণ পরপর বাঘ করোনা, জয়া, জো বাইডেন, শুভ্রা, প্রকৃতিকে পানিতে ডুব দিতে দেখা গেছে। পানিতে কখনও একে অন্যের পিঠে ওঠে, খুনসুটি করে অথবা নীরবে বসে থাকছে এরা। পশুদের এমন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন দর্শনার্থীরা। কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করতে দেখা যায় পশুদের। স্বাভাবিক সময়ে ছোট-বড় বানরকে খাঁচার চারপাশে সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ, একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি, দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নানা খাবার গ্রহণ করতে দেখা গেলেও এখন নেই সেই দৃশ্যও। 

গত বুধবার নগরের উত্তর কাট্টলী থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসেন শিমলা হক। তিনি বলেন, ‘দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন গরমের তীব্রতা বাড়ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দুই ছেলেকে নিয়ে এখানে এসেছি। তবে এখানে এসে দেখছি মানুষের মতো গরমে ভালো নেই পশুরাও। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন অনেকটা নিস্তেজ দেখা যাচ্ছে তাদের।’
বড় ছেলে সুলতান হক বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় আগেও বেশ কয়েকবার এসেছি। কিন্তু এবারের মতো নীরব থাকতে দেখিনি বাঘ-বাঘিনি, বানরসহ বেশির ভাগ পশুকে। গরমে তো আমরাও ভালো নেই। খাঁচাবন্দি পশুদের অবস্থা যে আরও খারাপ তা এখানে এসে নিজের চোখে দেখলাম।’
চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতে তীব্র গরম। প্রচণ্ড রোদের কারণে দিনে কাহিল অবস্থা হচ্ছে বেশির ভাগ পশুর। তাই গরম থেকে স্বস্তি পেতে এখন পানিতেই বেশির ভাগ সময় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে এরা। 
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গরমের তীব্রতাও। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভব হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে।’

আরও পড়ুন

×