রূপনগরের সেতু এখন পরিহাস
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রূপনগর মোড়ে অবস্থিত সংযোগ সড়কবিহীন সেতু সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৮:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রূপনগর মোড়ে অবস্থিত একটি সেতু; যার এক পাশে শাহজিবাজার মাজার গেইট থেকে পশ্চিমে চলাচলের রাস্তা। অপর পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় সেখানেই থমকে গেছে সেতুটি।
মাধবপুরের কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন পাকা গ্রামীণ সড়কে ২০ বছর ধরে সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে রূপনগরের এ সেতুটি। কোনো কাজে না লাগায় উন্নয়নের পরিহাস হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের কাছে। সংযোগ ছাড়া ১২ লাখ টাকার সরকারি উন্নয়ন কাজ এখন এলাকাবাসীর উপহাসে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়াইন বাজার সড়কের রূপনগর গ্রামের খালের ওপর পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০ বছর আগে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি জটিলতা এবং পরিকল্পনার অভাবে সেতুটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো সেতু ভেঙে একই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের শিডিউল থাকলেও স্থানীয় কিছু লোকের বাধার কারণে প্রকৌশল বিভাগ তখন তা করতে পারেনি। পরে বরাদ্দের টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে পাশেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। সেটি এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, পুরোনো সেতু ভেঙে আগের জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে আজ এই অবস্থা হতো না। এখন নতুন সেতু চালু করতে গেলে আরও অনেক কাজ করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সরু সেতু দিয়ে হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের প্রায় ২০ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন কেন শিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়নি। শুনেছি, পাশের জমির মালিক জায়গা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
জমির মালিক রূপনগর গ্রামের বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, কখনও বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেইনি। জমিটি তাঁর কেনা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী দাম পরিশোধ করলে জায়গা দিতে রাজি তিনি।
- বিষয় :
- সেতু
